নেত্রকোনার মদন উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সেবাগ্রহণকারী ও সেবাদানকারীদের মুখোমুখি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে উপজেলার ৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের (দেওসহিলা, রুদ্রশ্রী সবুরুন্নেসা ও কদমশ্রী) সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, মদন এর আয়োজনে এবং পপি ও কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায় সেবাদানকারী ও সেবাগ্রহনকারীদের নিয়ে এক মুখোমুখী সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডা: মোঃ সেলিম মিঞা। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মদনের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল হক ভূঁইয়া ও ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার।
এসময় অন্যান্যে মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৌহার্দ্য III কর্মসূচি পপি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ জিল্লুর রহমান, মোঃ তমিজ উদ্দিন আহমেদ- সিনিয়র টেকনিক্যাল ম্যানেজার-(গর্ভনেন্স এন্ড কমিউনিটি এনগেইজমেন্ট), এসএম খালেদুল এহসান- সিনিয়র টেকনিক্যাল ম্যানেজার- (হেলথ এন্ড নিউট্রিশন) সৌহার্দ্য III কর্মসূচি, কেয়ার বাংলাদেশ। সভায় সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন মঈন উদ্দিন আহমেদ, টেকনিক্যাল অফিসার, সৌহার্দ্য III কর্মসূচী, পপি, মদন উপজেলা। মুখোমুখি সভায় ১৬জন সেবাগ্রহীতা, ৪জন নির্বাচিত ইউপি সদস্য, ৪জন সিএইচসিপি ও এইচএ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সেবাদানকারী ও সেবাগ্রহনকারী উভয় পক্ষ নির্দিষ্ট ৪টি কমিউিনিটি ক্লিনিকের সেবাদান ও সেবাগ্রহণের মান নির্ণয়ে ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনের মাধ্যমে উভয় পক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত স্কোরিং এবং এক্ষেত্রে সমস্যা, সম্পদ ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সেবার মান্নোয়নের সুপারিশসমুহ মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
এসময় সেবা গ্রহণকারীদের অংশগ্রহণে মুক্ত আলোচনায় কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা মানোন্নয়নে বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত গ্রহণ করেন প্রধান অতিথি ডা: মোঃ সেলিম মিঞা। এরই প্রেক্ষিতে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘কিছু সমস্যা আছে যা আমরা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পক্ষ থেকে সমাধান করতে পারি, আর কিছু সমস্যা আছে যা কমিউনিটির মাধ্যমে করা যায়, আর কিছু সমস্যা আছে যা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে করা যায়। এছাড়াও ছোট খাট কিছু সমস্যা আছে যা কমিউনিট ক্লিনিকের ফান্ড থেকে করা সম্ভব। সুতরাং আমরা সবাই মিলে অর্থাৎ সরকার ও কমিউনিটির জনসাধারণসহ এই সকল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। যাতে করে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান বাড়ানো যায়। যে ক্লিনিকে এফডব্লিও ও এইচএ পদ শূন্য আছে তা অতিতাড়াতাড়ি পূরন করার পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সফি বলেন, ‘আমার এলাকার ক্লিনিকের সমস্যা গুলো আমি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটের আওতায় সমাধান করার চেষ্টা করব।’
উল্লেখ্য, এ উপজেলার ৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সেবাদানকারী ও সেবাগ্রহনকারীদের নিয়ে দুই ধাপে (প্রথম ধাপ ২০১৯ সালে এবং দ্বিতীয়টি সাম্প্রতিক সময়ে) প্রতিটি ক্লিনিকে দুটি করে চারটি ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন হয় এবং উভয় পক্ষই ৬ টি সূচকের বিপরীতে সেবার মান নিরূপণ করেন। পাশাপাশি ক্লিনিকসমুহের আরো উন্নয়নের জন্য সেবা গ্রহীতা ও সেবা প্রদানকারীগণ সুপারিশ করেন।
সভায় ১ম ও ২য় ধাপে কমিউনিটি ক্লিনিকসমুহের সেবার মানোন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অংশগ্রহণ, জেলা-উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের দিক নির্দেশনা এবং ইউনিয় পরিষদের পক্ষ থেকে এ চারটি ক্লিনিকের অবকাঠামো, সেবার ব্যবহার বৃদ্ধি, সেবার ধরণ ও মানের ক্ষেত্রে সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে মর্মে ঐক্যমত প্রকাশ করা হয়।
এ সময় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কাংক্ষিত মাত্রায় সেবা প্রদান ও অবকাঠামোগত আরো উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদের সুদৃষ্টি ও কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সেবাগ্রহণকারীগণ দাবী জানান।
সৌহার্দ্য কর্মসূচি কর্তৃক কমিউনিটি স্কোর কার্ড (সিএসসি) প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয় এবং চারটি ক্লিনিকের এ উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান যাচাই ও সে অনুযায়ী মানোন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণে এ প্রক্রিয়া অন্যান্য ক্লিনিক সমূহে চালু করার প্রস্তাবকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ স্বাগত জানান।