মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে নিন্দা, প্রত্যাহার ও অপসারণের দাবি বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু নেপালের নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব সাইবার ঝুঁকিতে বন্ধের ৩ দিন পর সচল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিপীড়ন ‘দুঃখজনক ও লজ্জাজনক’: ধর্মমন্ত্রী বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়াল যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ৩ দিনের খাবার-পানি মজুতের নির্দেশনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব

ডাক্তার দেখাতে এসে মায়ের দেয়া শেষ স্মৃতি হারালেন লাকী আক্তার

মো: আল-আমীন, স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০২২
  • ১৩২ বার পড়া হয়েছে
ডাক্তার দেখাতে এসে মায়ের দেয়া শেষ স্মৃতি হারালেন লাকী আক্তার

কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে এসে চুরের কবলে পড়ে মায়ের দেয়া শেষ স্মৃতি গলার চেইন (স্বর্ণের) হারালেন মোছা: লাকি আক্তার (২৭) নামে সেবা নিতে আসা এক রোগী।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জ সদরের মারিয়া ইউনিয়নের বেসিক এলাকার মোছা: লাকি আক্তার ডাক্তার দেখানোর জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আসেন সকাল ৮টার সময়। স্বাভাবিক নিয়মে ১০ টাকার টিকেট কেটে হাসপাতাল আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে হয়। অন্যদের মতো তিনিও টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ান। মানুষের ভিড় বেশি হওয়ায় তিনি দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানোর পরও টিকিট পাচ্ছিলেন না।

লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় হঠাৎ তিনি গলায় হাত দিয়ে দেখেন তার স্বর্ণের চেইন নেই। তিনি বুঝতে পারেন কেউ তার গলার চেইন নিয়ে গেছে। তাৎক্ষনিক তিনি চিৎকার চেচামেচি শুরু করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য এসে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং আশেপাশে খুঁজাখুজি করেও চুরকে ধরতে ব্যর্থ হন। রোগীর ভাষ্যমতে তার গলার চেইনটি চুরি হয় সকাল ১১টার কিছু সময় আগে।

অনেকের পরামর্শে মোছা: লাকি আক্তার চুর শনাক্তের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শরণাপন্য হন। প্রশাসনিক ভবনে দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: শহীদ কবিরের কাছে গিয়ে সহযোগিতা চাইলে তিনি মহিলাকে উল্টো অনেক কথা শুনান। প্রশাসনিক কর্মকর্তা তখন মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা নষ্ট, তিনি কেন গলায় চেইন লাগিয়ে হাসপাতালে আসলেন, চুর ধরা আমাদের কাজ না ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন মহিলা পরিচালকের রুমের সামনে এসে হাউ-মাউ করে কান্না করতে করতে পরিচালকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

এমন অবস্থায় প্রায় ২টার সময় পরিচালক তার রুমে আসার পর মহিলার কান্না শুনলে তাকে রুমে ডেকে নেন এবং তার কথা শুনেন। মহিলা তখন বলেন, আমি ২ মাসের গর্ভবতী। গাইনী ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে এসেছিলাম। কিন্তু ডাক্তার দেখানো আমার ভাগ্যে জুটে নি। আমার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে খুবই দুর্বল, স্বামী গার্মেন্টসে চাকরি করেন। সীমিত আয়ে কোনো রকম সংসার চলে। আমার গলায় যে চেইনটুকু ছিল সেটি আমার মা বিয়ের সময় দিয়ে দিয়েছিল। এটিই আমার মায়ের একমাত্র স্মৃতি। আরেকটা চেইন কেনার মতো সামর্থ আমার নেই। এসময় তিনি হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা দেখে চুর শনাক্ত করে চুরি যাওয়া স্বর্ণের চেইনটুকু উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য পরিচালকের কাছে বিনীত আবেদন জানান।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: মো: হাবিবুর রহমান মহিলার সব কথা শুনে তাকে শান্তনা দিয়ে চুর ধরে তার চেইন উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেন এবং মহিলার নাম ঠিকানা হাসপাতালে লিখে রাখতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আউটর্সোসিং কর্মী জানান, টিকেট কাউন্টারের সামনে প্রায়ই এমন চুরি ও পকেট মারের ঘটনা ঘটে। মাইকিং করা সত্বেও ডাক্তার দেখাতে আসা মানুষজন সচেতন হয় না। কেউ লাইন মেইনথেইন করতে চায় না। কার আগে কে টিকিট নেবে সে চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে। হয়তো এই ফাঁকেই চুর তার ফায়দা লুটে।

হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা পুলিশের এসআই মো: হাবিল উদ্দিন জানান, ঘটনার শুনার পর আমি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ শান্ত করি এবং চুর ধরার জন্য আমার টিমের সদস্যদের নিয়ে হাসপাতালে অনেক খুঁজাখুঁজি করি। তিনি আরও জানান, যেহেতু মহিলার গলা থেকে চেইন চুরি হয়েছে চুরও মহিলা হবে। আর এমন ভীড়ের মধ্যে মহিলা চোর ধরা আমাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

এবিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক ডা: মো: হাবিবুর রহমান জানান, সকালে আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে আসা রোগী প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ভীড় হয়। চাপ সামাল দেয়া অনেক কঠিন। তবুও চুর, পকেটমার থেকে সাবধানতার জন্য আমরা ৫ মিনিট পর পর মাইকিং করি সচেতনতার জন্য। মাইকিং করার পরও যদি কেউ সচেতন না হন তবে আমরা কি করব।

এমনিতেই নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল হাসপাতাল। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চুরের উৎপাত বন্ধে উদাসিনতা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন সোস্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় মাঝে মাঝে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com