কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ৫জন নারীকে ৫টি ক্যাটাগরীতে জয়িতা সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে দেশের নারী সমাজ। পুরুষের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে এগিয়ে নিচ্ছে এ দেশের নারীরা। কিন্তু খুব সহজেই সব নারীদের জীবনে সফলতা আসেনি।
এজন্য করতে হয়েছে সংগ্রাম আর প্রাণপণ চেষ্টা। অনেকের রয়েছে অনেক করুণ ইতিহাস। সব বাঁধা আর সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে যারা সফল হয়েছে তারাই তো জয়িতা। সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে অথবা ব্যক্তি জীবনে সফলতা পেয়েছে এমন নারীদের মধ্যে সরকার ৫টি ক্যাটাগরীতে জয়িতা সম্মাননা প্রদান করে থাকে।
আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধপক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস ২০২২উদযাপন উপলক্ষে “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজলিন শহীদ চৌধুরী, পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম আকন্দ, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুন্নাহার বেগম আপেল, পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ কফিল উদ্দিন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রওশন করিম প্রমুখ।
এ বছর যে ৫জন নারী মনোনিত হয়েছেন তারা হলেন, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী ক্যাটাগরীতে সুরাইয়া আক্তার ,পিতা: মোহাম্মদ আলী, মাতা নাজমা । তিনি পৌরসভার পাইক লক্ষীয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্নাস সহ এম.এস.এস করেন।বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত রয়েছেন । সফল জননী ক্যাটাগরীতে আস্তিফা খাতুন। তিনি উপজেলার চরফরাদী গ্রামের নুর হোসেন এর সহধর্মীনি। সফল এ জননী ৪ সন্তানের মধ্যে ছেলে মোঃ জাকির হোসেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনোহরদী কর্মরত। তানজিনা আক্তার ইডেন কলেজ হতে এম.এস. এস. করেন। ফৌজিয়া আক্তার জাহাংগীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। “নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী ক্যাটাগরীতে কল্পনা আক্তার। তিনি পোড়াবাড়িয়া গ্রামের হারুন অর রশিদ শাহর মেয়ে। কল্পনা আক্তার এর স্বামী ২টি সন্তান রেখে আরেকটি বিবাহ করেছে। পিতার বাড়ীতে থেকে চরম অভাব অনটনের মধ্যে এইচএসসি পাশ করে বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে। “অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী ক্যাটাগরীতে জান্নাতুল ফেরদৌস কলি। তিনি উপজেলার সৈয়দগাঁও গ্রামের মৃত মোঃ শাহআলমের সহধমীর্নি । দুইবছরের শিশু সন্তানকে স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। নিম্মমধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা জান্নাতুল ফেরদৌস কলি এইচএসসি পাশ করার পর সেলাই প্রশিক্ষণ ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরুর খামার, ফলের বাগান, কৃষিকাজ করে সাবলম্বী হয়েছেন।
বর্তমানে তিনি৩/৪ জন শ্রমিক কাজ করে এবং তার সন্তান বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে। “সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী ক্যাটাগরীতে মুক্তা বেগম। তিনি উপজেলার ছয়ছির গ্রামের রিটন মিয়ার স্ত্রী। তিনি নারী উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষিত ধাত্রী কমিউনিটি পুষ্টি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, স্কুল ঝরে পড়ারোধ সহ সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।