যশোরে রিকসা চালক সাইফুল ইসলামকে মারপিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় আইনজীবী আরতী রাণী ঘোষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে কেন স্থায়ী বহিস্কার করা হবেনা সে ব্যাপারে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রোববার পজলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক আবু মোর্ত্তজা ছোট।
যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু মোর্ত্তজা জানিয়েছেন, আরতী রানীর শোকজের জবাব সন্তোষজনক হয়নি।
শোকজের জবাবে তিনি বলেছেন- ওই রিকসাচালক প্রথমে তাকে আঘাত করেছে। এতে তিনি মারাত্মক ব্যাথা পান ও তার শরীরে জখম হয়। পরে রাগন্বিত হয়ে তিনি রিকশাচালককে মারপিট করেছেন। এছাড়া তার জবাবের সাথে তার মেডিকেল সার্টিফিকেট, ক্ষত স্থানের ছবি ও হাসপাতালে ভর্তি থাকার প্রমাণ পত্র দিয়েছেন।
আরতী রানী শহীদ পরিবারের সন্তান দাবি করে এধরণের কাজ আর কখনোই তিনি করবেন না এবং ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত ও ভুল স্বীকার করে সমিতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
তিনি বলেন, সমিতির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাময়িক বহিস্কার করে কেন স্থায়ী বহিস্কার করা হবে না সে ব্যাপারে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তার দেয়া জবাব যদি সন্তোষজনক না হয় তাহলে সমিতির পক্ষ থেকে বার কাউন্সিলে তার স্থায়ী বহিস্কারের সুপারিশ করা হবে।
উল্লেখ, গত ৭ মে রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কোর্ট-গাউন পরিহিত আইনজীবী আরতী রাণী ঘোষ রিকসা চালকের কলার ধরে মুখে চড় থাপ্পড় মারছেন। রিকসা চালক জোড় হাত করে বারবার ক্ষমা চাইলেও তাকে মারতে দেখা যায়। পরে পথচারীরা আইনজীবীকে নিবৃত করতে সক্ষম হন। এ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অভিযুক্ত আইনজীবী শহরের অম্বিকা বসুলেনের নীলরতন ঘোষের মেয়ে। ভুক্তভোগী রিকশাচালক সাইফুল ইসলাম যশোর সদরের আব্দুলপুর সাজিয়ালী গ্রামের বাসিন্দা।