শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
সংকট পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু কিশোরগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ২৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার তাড়াইলে দারুল কুরআন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি হোসেনপুরে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নেপালের বন্যা: জলবায়ু পরিবর্তনের সীমান্তহীন হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে টেপ লাগানো লাশ উদ্ধার কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও চড়া ডিম-মুরগির দাম বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু

ইরানে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞায় অর্থনীতি সংকটে

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে
ইরানে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি, যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞায় অর্থনীতি সংকটে

হু হু করে বাড়ছে দাম, কোটি মানুষ হয় চাকরি হারিয়েছেন, নয়তো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে আপাতত বন্ধ; এসবই ইরানের অর্থনীতির বেহাল দশাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

খাদ্য ও ওষুধ, গাড়ি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যসহ প্রায় সবকিছুই ইরানিরা এ সপ্তাহের শুরুর দিন শনিবার যে দামে কিনেছে, গত সপ্তাহেও দাম তার চেয়ে খানিকটা কম ছিল।

স্থানীয় অব্যবস্থাপনা, ইরানি স্থাপনাগুলোতে টানা বোমাবর্ষণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের পাশাপাশি ৬৪ দিন ধরে তেহরানের কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ করে রাখায় ৯ কোটির বেশি মানুষের দেশটির অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায় পৌঁছে গেছে।

দেশটির মুদ্রা রিয়াল দেখেছে রেকর্ড দরপতন। তেহরানে খোলা বাজারে এখন প্রতি ডলারের বিপরীতে মিলছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার রিয়াল। বাজারে অস্থিরতার কারণে দেশটিতে মুদ্রা কেনাবেচা কার্যত বন্ধই আছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

একই অবস্থা অন্য সব পণ্যের ক্ষেত্রেও। পরিস্থিতি আর কতটা খারাপ হতে পারে, নতুন পণ্য আসবে কিনা—এ অনিশ্চয়তায় ক্রেতা-বিক্রেতারাও কী যে করা উচিত তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

সরবরাহ কমায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক বিক্রেতাই এখন পণ্যের দাম বেশ দ্রুত বাড়াচ্ছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি দেখা অন্যতম দেশ ইরানেও এমন চিত্র বিরল।

অ্যাপলের ২৫৬ গিগাবাইটের আইফোন ১৭ প্রো-ম্যাক্সের দাম যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে এক হাজার ২০০ ডলার, তেহরানের কোনো কোনো দোকানে তা কিনতে এখন প্রায় ৫০০ কোটি রিয়াল (২ হাজার ৭৫০ ডলার) লাগছে। অনেকে তো বিক্রিই করতে রাজি হচ্ছেন না।

সাধারণ ফরাসী গাড়ি পুজো ২০৬—যা এখন ইরানে তৈরি হয়, বেশ জনপ্রিয়—কিনতে গেলে চোখ কপালে উঠে যাবে। সস্তার এ গাড়ি কিনতেই শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে এখন গুনতে হচ্ছে ৩ হাজার কোটি রিয়াল (১৬ হাজার ৫০০ ডলার)।

আমদানি করা গাড়ির খোঁজ পাওয়া তো আরও কঠিন। যদিও বা মেলে, দাম শুনলে হবে মূর্ছা যাওয়ার যোগাড়। সেই একই গাড়ি এখন প্রতিবেশী আরব আমিরাতের বাজারে মিলবে ইরানের দামের ২০ শতাংশে।

শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন গাড়ির বাজারে প্রতিদিন দাম বাড়ছে বলে স্বীকার করলেও এর জন্য মূল্যস্ফীতি সংশ্লিষ্ট ‘মনস্তাত্ত্বিক’ কারণ এবং অস্থির বাজারের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেশি লাভ-প্রত্যাশী লোভী বিক্রেতাদের ‘ভুয়া দাম’কে দায়ী করেছে।

২১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন পারস্য বছরে সরকার মজুরি প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়ানোর পরও ইরানে এখন মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১৭ কোটি রিয়ালের (৯২ ডলার) কম। সরকার খাবার ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসে জনপ্রতি প্রতিমাসে যে ভর্তুকি দিচ্ছে তাও ১০ ডলারের কম।

“আপনি জিনিসপত্রের দাম ও বেতনের দিকে তাকান, দেখবেন হিসাব মিলছে না।

“এই অবস্থায় আপনি তেমন কিছুই করতে পারবেন না। সামান্য যা আছে তা দিয়ে এমন কিছু কিনতে পারেন, যার দাম কমবে না। কিংবা দরকারি সে জিনিসটি এখনই কিনে ফেলতে পারেন, পরে যা কেনা সম্ভব নাও হতে পারে,” নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমনটাই বলেছেন তেহরানের এক বাসিন্দা।

‘উন্নতির চূড়া’

যুদ্ধ আর অর্থনীতির বেহাল দশায় কতজন রোজগারের পথ হারিয়েছে—এ সংক্রান্ত বিস্তৃত তথ্য দেয়নি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার।

কিন্তু তেহরানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শুরু করে ইস্পাহানের বিশাল ইস্পাত কারখানার মতো ইরানের বেশিরভাগ বড় কোম্পানিই কর্মী ছাঁটাইয়ে বাধ্য হয়েছে।

তার মধ্যেই শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ‘সামরিক সংঘাতে তার অসাধারণ সক্ষমতার খানিকটা প্রমাণ বিশ্বের কাছে রেখেছে’।

এখন ধর্মীয় ও সামরিক নেতৃত্বকে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামেও ‘শত্রুদের হতাশ ও পরাজিত’ করতে হবে, বলেছেন মুজতাবা।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তার বাবা, সেসময় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর কিছুদিন পর ছেলের হাতেই সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব সঁপে দেয় ইরান।

যদিও নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর মুজতাবাকে এখনও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সেই তিনিই আড়াল থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যতটা সম্ভব কর্মী ছাঁটাই থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, “ইরান উন্নতি ও অগ্রগতির চূড়ায় ওঠার পথে রয়েছে’।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com