পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দিচ্ছে তা দলীয় ফোরামে চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি সভা করবে। স্থায়ী কমিটির সভা হবে, সিদ্ধান্ত হবে, এরপরই জানা যাবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার নাম শোনা যাচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, প্লিজ, সংবিধান অনুযায়ী যে সমস্ত নিয়ম আছে সেটা মেনে দল যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই হবে চুড়ান্ত।
মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই গতকাল শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এই সময়ে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রাষ্ট্রপতির বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে আরডিএর বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন করতে হলে শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণ করলেই চলবে না, সর্বাগ্রে কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হবে। বর্তমানে দেশের প্রান্তিক চাষিরা হাড়ভাঙা খাটুনি করেও উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। এর ফলে কৃষিকাজের প্রতি দিন দিন মানুষের অনীহা তৈরি হচ্ছে।
মধ্যস্বত্বভোগীদের থেকে কৃষকদের রক্ষায় কৃষিজাতপণ্য সরাসরি বাজারজাত করতে বাস্তবমুখী ও নতুন নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।
সেই সঙ্গে তিনি সরকারি পর্যায়ে নিবিড় গবেষণা এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটিয়ে দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে গবেষক ও উদ্ভাবকদের অনেক ভালো কাজ হলেও সেগুলো যথাযথভাবে প্রচার পায় না। অথচ এসব উদ্ভাবন কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে এবং প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়াতে তিনি বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যে তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
কৃষিপণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণনে আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণ করলে অনেক তরুণ সফল হতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।