মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
ইশরাকের পদত্যাগপত্র পেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আজই প্রজ্ঞাপন হতে পারে সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল তাড়াইলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে হরিজন ও জেলে সম্প্রদায়ের নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ বদলগাছীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৪০০ দুস্থের মাঝে বস্ত্র বিতরণ ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশের গুঞ্জন বদলগাছীতে হত্যা চেষ্টার আসামিদের বাঁচাতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ পাকুন্দিয়ায় অটোবাইকের চাপায় ৬ বছরের শিশু নিহত ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৪তম সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা পেলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

কোনো কাজেই লাগছে না ১৭ লাখ টাকার ব্রীজ, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ভিডিও দেখুন

ওয়ান নিউজ 24 বিডি ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৩ জুন, ২০১৯
  • ৮৫৪ বার পড়া হয়েছে
রাস্তা থেকে ১৬ ফুট উঁচুতে তৈরী করা সেই ব্রীজ। ছবি: মো: আল-আমীন

মো: আল-আমীন :

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রাণালয় অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট কর্মসূচী ২০১৬-২০১৭’র আওতায় যশোদল ইউনিয়নের ধলিয়ারচর গ্রামে পার্শ্বের রাস্তায় ২০ ফুট দীর্ঘ, ১৪ ফুট প্রসস্ত ও ১৬ ফুট উঁচু এই ব্রিজটি নির্মাণ করেছিল স্থানীয় ঠিকাদার মজলিস উদ্দিন। প্রকল্পের নাম- গঙ্গা খালের উপর ব্রীজ, যার ব্যয় ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। 
 
চলাচলের রাস্তা থেকে অতিরিক্ত উচ্চতা ও ব্রীজের দু’পাড়ে মাটি ভরাট না করায় দুর্ভোগে পড়া সেখানকার জনসাধারণ তাদের সীমাহীন কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের কাছে। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও এর কোনো সমাধান মিলেনি। নিম্নমানের কাজের কারণে ইতোমধ্যে ধীরে ধীরে ভাঙ্গন ধরেছে ব্রীজের বিভিন্ন অংশে।

এলাকাবাসী বলেন, ২০১৭ সালে এই ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ব্রিজটির দুই পার্শ্বে মাটি না ফেলায় এই ব্রিজটি কখনও তাদের কোনো কাজেই আসে নাই। আড়াই বছর ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় গেলো বর্ষায় দূর্ঘটনা ঘটেছে অনেক। ছোট শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধিরা কোনো ভাবেই ব্রীজের এপার থেকে ওপারে যেতে পারেন না। চলাফেরার অসুবিধার কারণে অনেকে বসতিও স্থানান্তর করেছেন অন্যত্র। ফলে ধলিয়ারচর গ্রামের হাজারো মানুষ মারাত্মক ভোগান্তিতে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রতি বর্ষা মৌসুম এলে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

ছবি: মো: আল-আমীন

ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে জিনিস পত্র বিক্রি করি, কিন্তু কোনো দিনও আমার ভেনগাড়ি নিয়ে রাস্তার ওপারে যেতে পারিনি। এতে আমার ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়। কথাগুলো বলছিলেন একজন ফেরিওয়ালা। এরমধ্যে একজন বৃদ্ধ লোক সাংবাদিক দেখে সামনে এগিয়ে এসে বলেন আমি বৃদ্ধ মানুষ, এ ব্রীজ হওয়ার পর থেকে ওপারে গিয়ে মসজিদে নামায আদায় করতে পারি না। আমাকে ঘরেই নামায করতে হয়। আমাদের এমন ব্রীজ দরকার নেই, আগেই ভালো ছিল। ব্রীজের পাশে এক মুদি দোকানদার বলছিলেন ছোট ছোট যানবাহন এলে ব্যবসা রেখে তাদের যানবাহন ঠেলে ঠেলে ব্রীজ পার করে দিই। অনেক দুর্ঘটনার স্বাক্ষী আমি, কত মানুষ হাত-পা ভেঙ্গেছেন তার কোনো হিসেব নেই। খাদিজা বেগম নামে এক মহিলা বলেন এই পাহাড়ের মতো উঁচু ব্রীজ আমাদের কোনো দরকার নেই, এই ব্রীজ কার জন্য করছে? আমরাতো ব্রীজে উঠতেই ভয় পাই।

বাই সাইকেল, মটর সাইকেল ও ছোট ছোট ভ্যান চালকরা খুব কষ্ট করে ও জীবন বাজি রেখে রাস্তা পাড়াপাড়ের দৃশ্য দেখেছি আমি নিজেই। অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা থেকে ১৬ ফুট উঁচু করে এমন ব্রীজ তৈরি করার কোনো মানেই আসে না এমন গ্রামাঞ্চলে। একজন প্রতিবন্ধি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন আমি আগে ওপারে যাওয়া আসা করতে পারতাম। বাজারে গিয়ে বাজারে করে কম সময়ে চলে আসতে পারতাম। কিন্তু আমাকে এখন প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা বেশি যাতায়াত করতে হয়। ব্রীজের প্বার্শবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও যশোদল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মাসুদের সাথে কথা বলে জানতে পারা যায় আরও দুই বছর আগে ব্রীজের কাজ অস্পূর্ণ রেখে ঠিকাদার কোম্পানি সব টাকা তুলে নিয়েছেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্ণদ্বার মো: মজলিস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান তারা কাজ সম্পূর্ণ করেই টাকা তুলেছেন। তিনি বলেন আমরা সরকারী ড্রয়িং অনুযায়ীই কাজ করেছি এবং কর্তৃপক্ষ আমাদের কাজ পরিদর্শন করেই বিলের অনুমোদন দিয়েছেন।

ভিডিওটি দেখতে এই লিংঙ্কে ক্লিক করুন :

এখন প্রশ্ন, তবে এ দ্বায় কার? ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ সুলতান রাজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একাধিকবার এ বিষয়টি উপজেলার মাসিক মিটিং এ আলোচনায় আনা হয়েছে, কিছু নিয়ম-কানুনের বেড়াজালে বিষয়টি সমাধান করা যাচ্ছে না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ধারা সম্ভব না হলে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে হলেও ব্রীজটি পুনরায় ভেঙ্গে উচ্চতা কমিয়ে নতুন করে তৈরী করে দেয়ার চেষ্টা চলমান রয়েছে। 

ভোক্তভোগীরা, আগামী বর্ষা আসার আগেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি চেয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যর কাছে।  

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com