শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৪তম সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা পেলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক হোসেনপুরে নিরাপদ সড়ক চাইয়ের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিউ ইয়র্কে ইউনূসকে হেনস্তা: দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চায় ঢাকা হোসেনপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অনিয়ম, দোকানিকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা কিশোরগঞ্জে ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি, পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত হোসেনপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত রাজশাহী রেঞ্জে সার্বিক মূল্যায়নে প্রথম নওগাঁ জেলা, শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম তাড়াইলে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মানুসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে পানিতে চুবিয়ে সুস্থ্য করতে গিয়ে মেরেই ফেললেন বাবা-মা

হৃদয় আজাদ, ভৈরব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৬২৬ বার পড়া হয়েছে

বিগত পাচঁবছর যাবৎ মানুসিক ভারসাম্যহীন হয়ে জীবন কাটাচ্ছিলেন আঠারো বছর বয়সী সোহান। ছেলেকে সুস্থ্য করতে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন সোহানের বাবা-মা। শেষমেশ কোনো চিকিৎসাতে যখন সোহান সুস্থ্য হচ্ছিল না তখন পাড়া-প্রতিবেশীদের পরামর্শে স্থানীয় একটি পুকুরে চুবিয়ে ছেলেকে সুস্থ্য করতে অপচিকিৎসা করেন কুসংস্কারে বিশ্বাসী সোহানের পরিবার। বেশ কয়েকদিন চুবিয়ে নিস্তেজ সোহানকে দেখে পরিবারের ধারনা ছিল ধীরে ধীরে হয়তো সে সুস্থ্য হয়ে উঠছে। সবশেষ তাড়াতাড়ি সুস্থ্য করতে সোহানকে দীর্ঘ সময় ধরে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয় । আর এতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই ভারসাম্যহীন যুবক।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ উত্তরপাড়া গ্রামের আতর মিয়ার ছেলে সোহান মানুসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। পরিবারের দাবি প্রায় পাচঁবছর আগে এক সাইকেল দূর্ঘটনায় মানুসিক ভারসাম্য হাড়িয়ে ফেলেন তিনি। সেই থেকে টাকা-পয়সা খরচ করে স্থানীয় হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু কোনো চিকিৎসাতেই সুস্থ্য হয়নি সোহান। প্রতিবেশীরা জানায়, এ অবস্থায় গত কয়েক মাস ধরে গ্রামের কিছু কুসংস্কারে বিশ্বাসী লোকজনের পরামর্শে স্থানীয় একটি পুকুরে সোহানকে প্রতিদিন ৪/৫বার করে গোসল করানো শুরু করে তার পরিবার। তাদের বিশ্বাস, এই পুকুরে গোসল করেই একদিন ঠিকই ভালো হয়ে উঠবে সোহান। প্রতিদিন একাধীক বার গোসল করানোর পরেও দৃশ্যমান কোনো ফল পাচ্ছিলেন না তারা। শেষে কুসংস্কারে বিশ্বাসী প্রতিবেশিদের দেওয়া পরামর্শে কয়েকদিন যাবৎ সোহানের পরিবারের লোকজন তাকে প্রায়ই ওই পুকুরে কিছু সময়েল জন্য ডুবিয়ে রাখতো। এতে করে প্রায়ই জ্ঞান হাড়িয়ে ফেলতো সোহান। আর সোহানের এমন অচেতন হওয়াকে সুস্থ্যতা বলে বিশ্বাস করতো তার পরিবার। আর এই বিশ্বাস থেকেই গেল বৃহস্পতিবার সকালে সোহানকে পুনরায় ওই পুকুরে নিয়ে চুবাতে থাকে তার বাবা-মা! এক পর্যায়ে দীর্ঘসময় সোহানকে পানির নিচে ডুবিয়ে রাখেন তারা। আর তখনই দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ভারসাম্যহীন সোহান। সোহানের মা জানান ছেলেকে ভালো করতেই পানিতে চুবাতেন তারা। কিন্তু এমনটি হবে তাদের ধারনা ছিল না। একই বক্তব্য সোহানের বাবারও। তিনি জানান, প্রতিবেশী মুরুব্বিদের দেওয়া পরামর্শে বিশ্বাস রেখে ছেলেকে সুস্থ্য করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞানে মানুসিক ভারসাম্যহীন রোগীর এমন কোনো চিকিৎসার কথা উল্লেখ নেই বলে জানান চিকিৎসক। এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ভৈরব থানা পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানায় পুলিশ।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com