কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থেকে মানব পাচারকারীর ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লা। এ সময় পাচারকারী দলের কাছ থেকে ১জন নারীসহ ৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব সোমবার এ কথা নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব-১১, সিপিসি-২ সূত্রে জানা যায়-কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ধরকড়া বাজার এবং চিওড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মানব পাচারকারী চক্রের ৩ জন সক্রিয় সদস্যদের আটক করা হয়। আটককৃত মানব পাচারকারীরা হলেন- আব্দুর রহিম ওরুফে রুবেল (২৫), পিতা- মৃত আবুল কালাম, সাং- কাপড় চতলী, কাজী ফয়সাল আহাম্মেদ ওরুফে রনি (৩২), পিতা- কামাল উদ্দিন, সাং- ডিমাতলী ও নুরুল হক (২৯), পিতা-ফজলুল হক, সাং- কাপড় চতলী, সর্ব থানা- চৌদ্দগ্রাম, জেলা- কুমিল্লা। এ সময় তাদের কাছ হতে ৩ জন মায়ানমার নাগরিক (রোহিঙ্গা) কে উদ্ধার করে এর মধ্যে নারী রয়েছে একজন।
উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গা নাগরিকদের মধ্যে রয়েছে, অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৮, পানবাজার, বালুখালী ,মোঃ জাহেদ হোসেন (২৫), পিতা- আমির হোসেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৯, ও রফিক (৩৭), পিতা- হাকিম শরিফ, রোহিঙ্গা ক্যাম্প-সি/৩ । আটককৃত মানবপাচারকারীদের নিকট থেকে বিপুল পরিমাণ ভ‚য়া পাসপোর্ট, পাসপোর্ট তৈরীর ভ‚য়া জন্ম সনদ, পাসপোর্ট তৈরীর বিভিন্ন ভূয়া কাগজপত্র এবং সার্টিফিকেট তৈরীর কাজে ব্যবহৃত ৩টি কম্পিউটার, ২টি প্রিন্টার ও ১টি স্ক্যানার এবং ৭টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৬০,৫৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গা নারীর ভ‚য়া জন্মসনদ উদ্ধার করা হয়, যা এই পাচারকারী চক্র তৈরী করে তাদের মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে পাচার করার চেষ্টা করছিল।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামীরা জানায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের নানাবিধ প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে এসে বাংলাদেশী পাসপোর্ট তৈরী করে মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসছিল।