ঠাকুরগাঁওয়ে গৃহবঁধু নুর নাহারের হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে ।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ১১টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভুল্লী বাজারে মানববন্ধন ও র্যালী করে স্থানীয় সুশীল সমাজ। গৃহবঁধু নুর নাহারের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসি দাবিতে রাস্তায় মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করে শত শত মানুষ এ সময় স্লোগানে স্লোগানে বলেন ‘ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই’। এ সময় উত্তালে পরিনত হয় ভুল্লী বাজার। মানববন্ধনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, গৃহবঁধু নুর নাহার নিষ্সাপ, তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নুর নেহারের শশুর বাড়ীর লোকজন তাকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতো টাকার জন্য তার স্বামী রাজু বিভিন্ন ভাবে পাষবিক নির্যাতন চালাতো। যৌতুকের টাকা না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। অতিবিলম্বে হত্যাকারীদের আটক করতে হবে না হলে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলবো।
এ সময় বক্ত্যরা আরো বলেন, হত্যাকারীরা এখন পর্যন্ত কেন আটক হয়নি এর জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। আমরা অতি দ্রুত হত্যাকারীদের আটক চাই। মানববন্ধনে নুর নাহারের বাবা আশরাফ বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তারা আমার মেয়েকে দেখতে পারতো না। বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে নির্যাতন করতো। আমি হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। মানববন্ধন চলাকালীন সময়ে নুর নাহারের মা আবেগপ্নুত হয়ে পড়েন। মানববন্ধনে এক মহিলার হাতে লেখা প্লাকার্ডে দেখা যায় ‘ নুর নাহার হত্যার প্রতিবাদে রুখে দাঁড়াও এক সাথে’। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন,৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম,৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান,যুগ্ন সম্পাদক ও প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম, ৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল হোসেন ও স্থানীয় গণ্যমাণ্য সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) তানভীরুল ইসলাম বলেন,গৃহবঁধু নুর নাহারের হত্যাকান্ডের বিষয়টি তদন্তে আছে তদন্ত শেষ হলে বুঝা যাবে তারপর আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো। অভিযুক্তদের ধরতে আমাদের অভিযান চলমান আছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ৫ নং বালিয়া ইউনিয়নের বড় বালিয়া শিমুলতলী গ্রামের বাসিন্দা দুলাল এর বড় ছেলে রাজুর নিজ কক্ষে স্ত্রী নুর নাহার(১৮) এর পা বাঁধা ফাঁসি দেওয়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্ত শশুর দুলাল ও স্বামী রাজু।