র্যাব-১১ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ধর্ষন সংক্রান্ত অপরাধ কর্মকান্ড দমনের লক্ষ্যে র্যাব ফোর্সেস অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার জন্য নিয়মিত বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার জয়পুর গ্রামের জয়নাল আবেদিন এর ছেলে জুয়েল রানা (২৩) তার সহযোগীদের নিয়ে কিশোরী মেয়েকে জোরপূর্বক গণধর্ষন করে। ধর্ষনের পর হতে জুয়েল রানা (২৩) ও তার অন্যান্য সহযোগীরা পলাতক ছিল। বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং এ বিষয়ে কুমিল্লা হোমনা থানায় গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং তারিখে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৪ মার্চ ২০২০ ইং তারিখ রাতে র্যাব-১১ এর আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গধর্ষন মামলার প্রধান আসামী ও ধর্ষক জুয়েল রানা (২৩) কে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালি থানার আলেখারচর এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী স্বীকার করে যে, সে বিগত ২/৩ মাস যাবৎ ভিকটিমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছিল এবং ভিকটিমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ চলমান রাখতো। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং তারিখে ধৃত আসামী তার অন্যান্য সহযোগীদের সাথে পরামর্শক্রমে ভিকটিমকে ধর্ষনের পরিকল্পনা করে থাকে।
পরবর্তীতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং তারিখ ধৃত আসামী জুয়েল রানা (২৩) ভিকটিমকে মোবাইল ফোনে তার সাথে দেখা করতে বলে। উক্ত তারিখে ভিকটিম তার দুই বোনের সাথে গ্রামের ফকির বাড়িতে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক ওরশ দেখতে যায়। ওরশ দেখে রাত আনুমানিক ৮টার পর ভিকটিম তার দুই বোনের সাথে বাড়ি ফেরার সময় ধৃত আসামী জুয়েল রানা (২৩) ভিকটিমের সাথে কথা বলার অজুহাত দেখিয়ে ভিকটিমকে তার বোনদের থেকে কৌশলে মৃত মাওলানা মনিরুল ইসলাম এর ছেলে আরিফুল ইসলামের পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে যায়। এসময়ে ধৃত আসামী তার অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় জুসের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে কৌশলে ভিকটিমকে খাওয়ায়। পরবর্তীতে ধৃত আসামী মোঃ জুয়েল রানা (২৩) এবং তার ৫/৬ জন সহযোগী ভিকটিমকে মৃত মাওলানা মনিরুল ইসলাম এর ছেলে আরিফুল ইসলামের পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে টিন কেটে ঘরের ভিতর প্রবেশ করে এবং তারা ভিকটিমকে পালাক্রমে ধর্ষন করে ও মোবাইল ফোনে ধর্ষনের ভিডিওচিত্র ধারণ করে। ধৃত আসামী ও তার অন্যান্য সহযোগীরা রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে ভোর রাতে ভিকটিমকে রাস্তার পার্শ্বে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং তারিখে হোমনা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ঘটনার পর থেকেই ধর্ষক জুয়েল রানা (২৩) ও তার অন্যান্য সহযোগীরা পলাতক ছিল।