জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্ব ঘোষণা দিয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ১৭ মার্চ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশে সবার জন্য উন্মুক্ত করেছিল। এ সুযোগে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিনামূল্যে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে নারী-পুরুষ, শিশু ও কিশোর মিলিয়ে হাজারো পর্যটকের আগমণ ঘটে। পর্যটকরা আপন মনে ঘুরে বেড়ান লাউয়াছড়া উদ্যানের বিভিন্ন পাহাড়ি ট্রেইলে (সরু পথে) ও লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির আবাসিক এলাকায়।
বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৭ মার্চ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ সবার জন্য উন্মুক্ত করেছিল। সাথে সাথে তাদের ব্যবহৃত যানবাহানেরও কোন পার্কিং ফি দিতে হয়নি। ফলে এ সুযোগে মঙ্গলবার সকাল থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। তার একদিন পর বুধবার রাতে কমলগঞ্জ কমলগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্র লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর চা বাগান লেক, ধলই বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, হামহাম জলপ্রপাত, আদি বাসী খাসিয়া পুঞ্জি, মণিপুরি এলাকা ও চা বাগান এলাকা ভমণে পর্যটকদের নিরোৎসাহী করা হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়।
তবে লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান ফিলা পত্মী বলেন, এখন যেহেতু করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় সেহেতু পর্যটকদের ভ্রমণ কিছু দিনের জন্য বন্ধ রাখা উচিত। করোনাভাইরাস নিয়ে এমনিতেই খাসিয়া পরিবার সদস্যরা আতঙ্কিত। তার পরও উপজেলা প্রশাসন থেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিরোৎসাহী করে প্রজ্ঞাপন জারি করায় তারা খুশী।
লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভ্রমনে আসতেন। এদের মধ্যে বিদেমী পর্যটকও আসেন। এদের কারা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত তা বোঝার উপায় নেই। উপজেলা প্রশাসন থেকে পর্যটকদের নিরোৎসাহী করার প্রজ্ঞাপনের সত্যতা নিশ্চিত করে লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা আরও বলেন, এ দিকে তারার সতর্কভাবে নজরদারি করছে। এ প্রজ্ঞাপনের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান প্রায় পর্যটক শূণ্য বলে দাবি করেন বনবিট কর্মকর্তা।
কমলগঞ্জের ধলই চা বাগান সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বীর শ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধে পর্যটকদের আগমণ ঘটেনি। মাধবপুর চা বাগান সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাধবপুর লেকেও পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল না। একই অবস্থা ছিল চাম্পারায় চা বাগান সংলগ্ন হামহাম জলপ্রপাত, বিভিন্ন চা বাগান, মণিপুরি ও খাসিয়া অধ্যষিত এলাকায়।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সতর্কতামূলক এ ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ইতোমধ্যেই এই ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।