সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনা নদী বেষ্টিত খাস পুকুরিয়া, বাঘুটিয়া ও উমারপুর ইউনিয়ন লকডাউন ঘোষনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। ঢাকা ও নারায়গঞ্জ থেকে বিপুল সংখ্যক গার্মেন্টস শ্রমিক ও অন্যান্য পেশার মানুষ নৌপথ ও সড়ক পথে এই এলাকায় আগমন করায় উপজেলা প্রতিরোধ কমিটি কর্তৃক লকডাউন ঘোষনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুত আহমেদ নিশ্চিত করে বলেন নৌ পথে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
নদী পথের পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের সড়ক মহাসড়ক গুলোতেও কড়া নজরদারীতে রেখেছে হাইওয়ে পুলিশ। উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম গোল চত্বর থেকে শুরু করে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ ও বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানা পুলিশ। ঢাকামুখী কোন যনবাহন ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। উত্তরাঞ্চল থেকে যে সব যানবাহন ঢাকায় ঢোকার চেষ্টা করছেন তাদের ঘুরে দেয়া হচ্ছে। যারা সরকারের নির্দেশ মানছেন না তাদের জরিমানাও করা হচ্ছে।
শহরের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে মাইকিং করছে প্রশাসন।সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে উত্তর ও দক্ষীনাঞ্চলে ২২ জেলার যানবাহন চলাচল করে। বর্তমানে করোনা ভাইরাসে কারনে এই মহাসড়ক দিয়ে পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া সকল যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ঢাকাগামী বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রেবাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম মহাসড়ক, ঢাকা-রাজশাহী ও বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। ঢাকামুখী যনবাহন আটকে দেয়া হচ্ছে। তাদেরকে ঘুরিয়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে। পন্যবাহী যানবাহন ছাড়া ঢাকায় কোন যানবাহন ঢুকতে দেয়া হবে না।
চৌহালী উপজেলার নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুত আহমেদ বলেন, চৌহালী উপজেলা যমুনা নদী বেষ্টিত। নারায়নগঞ্জ-ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলার সাথে চৌহালীর নৌ পথে যোগাযোগ রয়েছে। মহাসড়কে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় থাকায় ঢাকা-নারায়নগঞ্জের বিপুল সংখ্যক গার্মেন্টসকর্মী ও অন্য পেশার মানুষ নৌপথে এখানে আসছে। করোনা ভাইরাসের ঝুকি কমাতে উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন লকডাউন ঘোষনা করে পুলিশের নজরদারী বাড়ানো হয়েছে।