কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তাজুল মিয়া (৫০) নামে ১ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন । এ ঘটনায় নিহত তাজুল সমর্থকরা প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ২৫/৩০ টি বসতবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে। এছাড়াও গ্রেফতার এড়াতে আসামী পক্ষের কোনো পুরুষ বাড়িতে না থাকার সুবাদে প্রতিরাতে আসামীপক্ষের নারীদের নির্যাতন ও শ্লীলতাহানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষ ভৈরব থানায় ৫টি মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারী উপজেলার মানিকদী চান্দেরচর বড়বাড়ির কেবলু মিয়ার কিশোরী মেয়েকে নিজ বাড়িতে গোসলরত অবস্থায় পাশ্ববর্তী বাড়ির কামাল মিয়ার পুত্র তৌফিক তার কয়েকজন বন্ধুদের সহযোগিতাই গোসলখানায় ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় কিশোরীর ডাক চিৎকারে তৌফিক ও তার সহযোগিরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটির সমাধান না করে উল্টো পরদিন গর্জি বাড়ীর ইউপি সদস্য নাসির ঊদ্দিন রাজা মিয়া, ছিদ্দিক মিয়া, মানিকদী গ্রামের লাল মিয়া ও ইসমাইল মিয়ার নেতৃত্বে বড়বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২৫/৩০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটসহ মারধর করে বেশ কয়েকজনকে আহত করে হামলাকারিরা।
এঘটনায় ধর্ষণ চেষ্টা, বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে বড়বাড়ির আলী মিয়া ও রেখা বেগম বাদী হয়ে ভৈরব থানায় পৃথক ২টি মামলা করেন। পরবর্তীতে গত ৩মে, দ্বিতীয় দফায় উভয় পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয় । এদের মধ্যে গর্জি বাড়ির তাজু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গর্জিবাড়ির সমর্থকরা ফের বড়-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ২৫/৩০টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। হামলায় বড়-বাড়ির ২টি পাকাভবন সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলে টাকা-পয়সা ও আসবাব পত্র লুটপাট করা হয়। বর্তমানে পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে আসামীপক্ষের কোন পুরুষ বাড়িতে না থাকায় গর্জি বাড়ির লোকজন প্রতিরাতে বড়বাড়িতে ঢুকে নারীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ অবশিষ্ট বাড়িঘর ভাংচুর না করার শর্তে টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিহত তাজু মিয়ার পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে তার স্বজন হত্যার বিচার দাবি করেছেন ।
এদিকে শালিসী দরবারে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। তবে বিষয়টির মীমাংসায় এখনো চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার।
অপরদিকে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি নজরধারি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিন।