রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
সংকট থাকলে বিরোধীদলের লং মার্চে ১ লাখ লিটার তেল কোথায় পাবে, প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রীর দীঘিনালায় ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের প্রতিবাদ ট্রাম্পের কড়াকড়ি ও তহবিল ছাঁটাইয়ের সুযোগ নিচ্ছে কানাডা ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তির নতুন রেকর্ড ‘আত্মগোপনে’ থাকা চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার চাকরি হারাতে পারে দেশের ছয় লাখ মানুষ, দারিদ্র্য পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কায় বিশ্বব্যাংক সিটি ব্যাংকের ‘সাঁইজি’ বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক গরিব নারীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নওগাঁয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন মৃত্যুর আগেই নিজের ‘চল্লিশা’, ৫ হাজার মানুষের ভোজ করালেন হোসেনপুরের রফিকুল নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮

‘ইচ্ছা করে একাত্তরের রামদাটি আবার হাতে নিই’- মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগম

দিলীপ কুমার সাহা, নিকলি, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৫৭ বার পড়া হয়েছে
মুক্তযোদ্ধা সখিনা বেগম

‘মুক্তিযুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। দেশে যতদিন রাজাকার থাকবে, ততদিন মুক্তিযুদ্ধ চলবে। এবার সেই যুদ্ধে জয়ী হতে বর্তমান সরকার রাজাকারদের বিচার শুরু করেছে। আশা করছি সরকার তাদের বিচার কাজ সুষ্ঠুভাবেই শেষ করবে। কথাগুলো কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা সখিনা বেগমের (৭৫)।

 

১৯৭১ সালে যেসব নারী বীরত্বের সঙ্গে রণাঙ্গনে লড়াই করে সাহসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সখিনা বেগম তাদের মধ্যে একজন। ১৯৭১ সালে একটি রামদা দিয়ে পাঁচ রাজাকারকে হত্যা করেন এই নারী মুক্তিযোদ্ধা।

সখিনা বেগম বলেন, ‘সেদিন যারা ধর্ষণ করেছে, গণহত্যা করেছে, দেশের সম্পদ লুট করেছে, সেই রাজাকাররা এখন সদর্পে ঘুরে বেড়ায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেংঙ্গে ফেলে এ কথা মনে হলে মাথা গরম হয়ে যায়। ইচ্ছা করে একাত্তরের রামদাটি আবার হাতে নিই।

নিকলী উপজেলার গুরুই গ্রামে সখিনা বেগমের জন্ম। ১৯৭১ সালে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা বসু বাহিনীর অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে সখিনা বেগম বিভিন্ন স্থানে সমুখযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯ অক্টোবর নিকলীকে মুক্ত করতে গিয়ে তার বোনের ছেলে মতিউর রহমান পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন। অক্টোবরের শেষের দিকে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর হামলা চালান। যুদ্ধে বহু পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার নিহত হয়। সখিনা বেগম সেই যুদ্ধে একাই পাঁচ রাজাকারকে রামদা দিয়ে হত্যা করেন। তার ব্যবহার করা ওই রামদা বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

একাত্তরে সখিনা বেগমের সাহসিকতার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে তাকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে সেই টাকা শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রতি মাসে যে টাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান, সেই টাকাও ঔষুধ কেনার জন্য ব্যয় করতে হয় অসুস্থ এই নারী মুক্তিযোদ্ধাকে।

সোমবার দুপুর ১২ টায় বাজিতপুর উপজেলার ইলচিয়া ইউনিয়নের বড়মাই পাড়া খালার বাড়িতে বিছানায় অসুস্থ অবস্থায় শুয়ে থাকা অবস্থায় সখিনা বেগমের সঙ্গে কথা হয়। ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গুরুই গ্রামে তাকে তিন শতাংশ খাসজমি বরাদ্দ দেয়। কিন্তু টাকার অভাবে সেই জমিও বিক্রি দেন। পরে সরকার আবার থাকে তিন শতাংশ খাসজসি বরাদ্দ দেন। কিন্তু টাকা অভাবে সে জায়গায় কোনো ঘর তুলতে না পেরে বরমাইপাড়ায় খালার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বীরাঙ্গনা সখিনা বেগম। নিঃসন্তান সখিনা বেগমের স্বামী মারা গেছেন পাকিস্তান আমলেই।

সখিনা বেগম বলেন, ‘দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যার বদলা নেওয়ার সময় এসেছে। রাজাকারদের বিচার বর্তমান সরকার শুরু যখন করেছে। আশা করি এ সরকারই এর বিচার শেষ করেই ছাড়বে। এ বিচার কাজ শেষ করতে এখন নতুন প্রজন্মের সময়ের দাবি। যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গেছে তারা দেশও জাতির শত্রু ,তাদের বিচার করতে হবে। তারা যাথে মাখা তুলতে না পারে। নিকলী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সখিনা বেগম দুঃসাহসিক নারী মুক্তিযোদ্ধা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও স্থানীয় রাজাকাররা তার ভয়ে অনেক দিন পালিয়ে ছিল।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com