ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যবসায়ী ফারুক খাঁন (৩০) হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে ভৈরব থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো ভৈরব পৌর শহরের পঞ্চবটি এলাকার সায়েব আলীর ছেলে রবিন (২০), ভৈরব উপজেলার জগমোহনপুর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে রায়হান (১৯) ও নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মৃত লায়েছ মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (২৫)।
গতকাল শনিবার রাত দশটার দিকে পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু সরণির চাঁন ভান্ডার দরবার শরীফের সামনে থেকে প্রথমে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে একটি রক্তমাখা সুইসগিয়ার ও চাকুসহ দুটি মোবাইলফোন উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে থানা হেফাজতে আটকৃত তিনজনই আলোচিত ফারুক খান হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার রাতে মামাত ভাই আরিফকে সাথে নিয়ে ফারুক খাঁন ব্যবসায়ীক কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আশুগঞ্জ থেকে সড়ক সেতু দিয়ে পায়ে হেঁটে ভৈরব প্রান্তে রেলওয়ে স্কুল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে তিনজন ছিনতাইকারী ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের সাথে থাকা মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিতে চাইলে ফারুক খান বাঁধা দেন। এসময় ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করে পালিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণের ফলে ফারুক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এসময় পথচারীদের সহায়তায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছোট ভাই সুমন খান অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এবিষয়য়ে আজ রবিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলণে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিন সাংবাদিকদের জানান, আটকৃত তিন ছিনতাইকারী ফারুক খান হত্যাকান্ডের সাথে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং উদ্ধারকৃত রক্তমাখা সুইসগিয়ার ও চাকু দুটি ফারুক খান হত্যাকান্ডে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও তারা পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করেছে।
এছাড়াও উদ্ধারকৃত মোবাইলফোন দুটি নিহত ফারুক খান ও তার মামাত ভাই আরিফের বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তিন আসামীকে কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।