২৬ বছর ধরে সন্তানের মতোই পোষা পাখির কন্ঠে ‘মা’ ডাক শুনে আসছেন ৫০ বছর বয়সের এক নিঃসন্তান নারী।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খামা গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের মেয়ে মদিনা ওরফে দিনা (৫০)। সন্তানের অভাব পূরণ করতে ২৬ বছর যাবৎ ময়না পাখি পুষে আসছেন তিনি। পোষা পাখিরা সন্তানের মতোই তাঁকে মা বলে ডাকতে শোনা যায়।
জানাযায়, ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন দিনা। বিয়ের দুই মাস পরই নতুন স্ত্রী কে বাড়িতে রেখে প্রবাসে পারি জমান স্বামী। দিনা তখন খুব একা দিন কাটাচ্ছিল। আর সেই একাকীত্ব ঘুচতে একটি পাখি কিনে আনলেন এবং পোষ মানাতে লাগলেন। ধীরে ধীরে পাখিটি কথা বলতে শিখলে পাখির প্রতি দিনারও ভালবাসা বাড়তে থাকে। একসময় দিনাকে মা বলে ডাকতে শুরু করে। পরে আরো একটি ময়না ও সাড়শ পাখি কিনে আনে দিনা। কিছুদিন পর সেই পাখিও দিনাকে চুটিয়ে মা ডাকতে শুরু করে।
দিনার স্বামী দীর্ঘ ২৫ বছর পর দেশে ফিরে এলেও দিনা কে ধরা-ছোঁয়া দেয়নি। এরপর স্বামীর সাথে দিনার সংসারের সমাপ্তি ঘটে। দিনা তখন মধ্যবয়সী নারী।
নতুন করে সংসার করার স্বপ্ন না দেখে পোষা পাখি নিয়েই সময় কাটাচ্ছেন।
দিনা বলেন, আমি নারী জাতি। সন্তানের মুখে মা ডাক শোনার ভাগ্য হল না আমার। এখন ওরাই (পাখি) আমার সন্তান। ওরা আমাকে মা বলে ডাকে। আমি খাইলাম কি-না তা জানতে চায়, ‘মা খাইছ? কী খাইছ, কও কও।’ তিনি বলেন, ওদের (পাখি) মুখে মা ডাক শুনে আমি কান্দি।
পাখির অসুস্থ হলে দিনা নিজেই সুস্থ করে তোলেন। তাছাড়া সব ধরনের খাবারই খাওয়ানো শিখিয়েছেন তার পোষা পাখিগুলো কে। বাকি জীবন পাখির সাথে হেসে খেলে পার করতে চান দিনা। দিনা ঘর থেকে বের হতেই পাখিগুলো ছোট বাচ্চাদের মতো চেঁচামেচি শুরু করে। তাই কোথাও গেলেও বেশিক্ষণ দূরে থাকতে পারেন না।
পাখিদের জন্য তার মন ছটফট করে।
তিনি বলেন, আমার জরায়ুতে টিউমার হয়েছে। বেশ কিছুদিন যাবৎ ভুগছি। চিকিৎসার জন্য গতকাল কিশোরগঞ্জ গিয়েছিলাম কিন্তু পাখিদের জন্য খারাপ লাগছিল তাই আর ভর্তি হইনি।
কারো সহযোগিতা পেলে আরও পাখি সংগ্রহ করতে চাই। এখন দুইটা পাখি আছে।
মদিনার মা বলেন, আমার মেয়ে সারাদিন এই পাখি নিয়ে খেলামেলা করে, আমার কাছে খুব ভালো লাগে। এর আগে একটি টিয়া ছিল, সেটা মারা গেছে। তখন আমার মেয়ে (দিনা) মাটিতে গড়াইয়া কানছিল। তখন আমার খুব কষ্ট লাগে।
স্থানীয় যুবলীগ নেতা আবুল কাশেম বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখছি দিনা আপা পাখি পোষেন, তবে এতোকিছু জানাছিল না। শুনে অবাক লাগছে। এই বাস্তবতা যে কোনো গল্পকে হার মানাবে।