রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
সংকট পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু কিশোরগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ২৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার তাড়াইলে দারুল কুরআন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি হোসেনপুরে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নেপালের বন্যা: জলবায়ু পরিবর্তনের সীমান্তহীন হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে টেপ লাগানো লাশ উদ্ধার কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও চড়া ডিম-মুরগির দাম বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু

সন্তান নেই, মা ডাক শুনতে ২৬ বছর ধরে পুষছেন পাখি

মো: মুঞ্জুরুল হক মুঞ্জু, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১
  • ১১৫ বার পড়া হয়েছে

২৬ বছর ধরে সন্তানের মতোই পোষা পাখির কন্ঠে ‘মা’ ডাক শুনে আসছেন ৫০ বছর বয়সের এক নিঃসন্তান নারী।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খামা গ্রামের মৃত শামসুদ্দিনের মেয়ে মদিনা ওরফে দিনা (৫০)। সন্তানের অভাব পূরণ করতে ২৬ বছর যাবৎ  ময়না পাখি পুষে আসছেন তিনি। পোষা পাখিরা সন্তানের মতোই তাঁকে মা বলে ডাকতে শোনা যায়।

জানাযায়, ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন দিনা। বিয়ের দুই মাস পরই নতুন স্ত্রী কে বাড়িতে রেখে প্রবাসে পারি জমান স্বামী। দিনা তখন খুব একা দিন কাটাচ্ছিল। আর সেই একাকীত্ব ঘুচতে একটি পাখি কিনে আনলেন এবং পোষ মানাতে লাগলেন। ধীরে ধীরে পাখিটি কথা বলতে শিখলে পাখির প্রতি দিনারও ভালবাসা বাড়তে থাকে।  একসময় দিনাকে মা বলে ডাকতে শুরু করে। পরে আরো একটি ময়না ও সাড়শ পাখি কিনে আনে দিনা। কিছুদিন পর সেই পাখিও দিনাকে চুটিয়ে মা ডাকতে শুরু করে।

দিনার স্বামী দীর্ঘ ২৫ বছর পর দেশে ফিরে এলেও দিনা কে ধরা-ছোঁয়া দেয়নি। এরপর স্বামীর সাথে দিনার সংসারের সমাপ্তি ঘটে। দিনা তখন মধ্যবয়সী নারী।
নতুন করে সংসার করার স্বপ্ন না দেখে পোষা পাখি নিয়েই সময় কাটাচ্ছেন।

দিনা বলেন, আমি নারী জাতি। সন্তানের মুখে মা ডাক শোনার ভাগ্য হল না আমার। এখন ওরাই (পাখি) আমার সন্তান। ওরা আমাকে মা বলে ডাকে। আমি খাইলাম কি-না তা জানতে চায়, ‘মা খাইছ? কী খাইছ, কও কও।’ তিনি বলেন, ওদের (পাখি) মুখে মা ডাক শুনে আমি কান্দি।

পাখির অসুস্থ হলে দিনা নিজেই সুস্থ করে তোলেন। তাছাড়া সব ধরনের খাবারই খাওয়ানো শিখিয়েছেন তার পোষা পাখিগুলো কে। বাকি জীবন পাখির সাথে হেসে খেলে পার করতে চান দিনা। দিনা ঘর থেকে বের হতেই পাখিগুলো ছোট বাচ্চাদের মতো চেঁচামেচি শুরু করে। তাই কোথাও গেলেও বেশিক্ষণ দূরে থাকতে পারেন না।
পাখিদের জন্য তার মন ছটফট করে।

তিনি বলেন, আমার জরায়ুতে টিউমার হয়েছে। বেশ কিছুদিন যাবৎ ভুগছি। চিকিৎসার জন্য গতকাল কিশোরগঞ্জ গিয়েছিলাম কিন্তু পাখিদের জন্য খারাপ লাগছিল তাই আর ভর্তি হইনি।
কারো সহযোগিতা পেলে আরও পাখি সংগ্রহ করতে চাই। এখন দুইটা পাখি আছে।

মদিনার মা বলেন, আমার মেয়ে সারাদিন এই পাখি নিয়ে খেলামেলা করে, আমার কাছে খুব ভালো লাগে। এর আগে একটি টিয়া ছিল, সেটা মারা গেছে। তখন আমার মেয়ে (দিনা) মাটিতে গড়াইয়া কানছিল। তখন আমার খুব কষ্ট লাগে।

স্থানীয় যুবলীগ নেতা আবুল কাশেম বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখছি দিনা আপা পাখি পোষেন, তবে এতোকিছু জানাছিল না। শুনে অবাক লাগছে। এই বাস্তবতা যে কোনো গল্পকে হার মানাবে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com