মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
ইশরাকের পদত্যাগপত্র পেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আজই প্রজ্ঞাপন হতে পারে সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল তাড়াইলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে হরিজন ও জেলে সম্প্রদায়ের নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ বদলগাছীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৪০০ দুস্থের মাঝে বস্ত্র বিতরণ ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশের গুঞ্জন বদলগাছীতে হত্যা চেষ্টার আসামিদের বাঁচাতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ পাকুন্দিয়ায় অটোবাইকের চাপায় ৬ বছরের শিশু নিহত ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৪তম সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা পেলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

হিজাব নিয়ে জার্মান নওমুসলিমের করুণ অভিজ্ঞতা

ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১
  • ১৫৫ বার পড়া হয়েছে
হিজাব নিয়ে জার্মান নওমুসলিমের করুণ অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি কর্মক্ষেত্রে নারীর হিজাব নিয়ে ইউরোপিয়ান আদালতের রায় নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। এ রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিভিন্ন অধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশংকা করছেন যে এতে করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে হিজাব পুরোপুরি নিষিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সম্প্রতি তুরস্ক ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড-কে জার্মান নওমুসলিম নারী মারয়াম (ছদ্মনাম) নিজের হিজাবের অভিজ্ঞতার কথা শোনান। হিজাব পরার আগ পর্যন্ত তিনি জার্মানির হামবুর্গ শহরের একটি প্রিস্কুলের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ৩২ বছর বয়সী মারয়াম ১০ বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করেন। বিভিন্ন দেশের শরনার্থীদের শিক্ষা কারিকুলামের সঙ্গে তিনি পরিচিত ছিলেন।

২০১৪ সালে শিক্ষক প্রশিক্ষণ শেষ করে মারয়াম জার্মানির একটি কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষকতা শুরু করেন। প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শিক্ষাদানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ায় মারয়াম ছিলেন সবার প্রিয় শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘আমার এ চাকরি খুবই ভালো ছিল। সবার মধ্যে পারষ্পরিক আন্তরিকতা কাজ করত। প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে কাজ করতে পারায় খুবই ভালো লাগত। পেশাগত দক্ষতার কারণে শিক্ষার্তীদের বাবা-মায়েরাও আমার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন।

কয়েক বছর পর লেবাননের এক তরুণের সঙ্গে মারয়ামের বিয়ে হয়। ২০১৭ সালে মারয়াম মা হতে যাচ্ছিলেন। তখন হিজাব পরা শুরু করে নতুন এক জীবন শুরু করেন তিনি। কিন্তু মারয়ামের এ সিদ্ধান্তে তার জীবনের গতিপথ বদলাতে বাধ্য করে। কারণ স্কুল কর্তৃপক্ষ তার এ অধিকার পূরণে বাধা দেয়।

স্কুল কর্তৃপক্ষ বিতর্কিত নিরপেক্ষ নীতির কথা তুলে ধরেন। এছাড়া মারয়ামে হিজাব নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, তিনি যদি শিক্ষকতা করে হিজাব পরা অব্যাহত রাখেন তাহলে শিশুদের আর কিন্ডারগার্ডেনে পাঠানো হবে না।

নিরপেক্ষতা আইন একটি বহুল বিতর্কিত আইন, যা জার্মানির ধর্মীয় অধিকার পালনের পুরোপুরি বিপরীত ভূমিকা পালন করে। এ আইনে শিক্ষক, বিচারক বা সরকারি পেশার কাউকে এমন কোনো পোশাক পরতে বারণ করা হয়েছে যার মাধ্যমে কোনো ধর্মের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত।

স্কুল কর্তৃপক্ষ মারয়ামকে প্রথমে হিজাব না পরতে পরামর্শ দেয়। কিন্তু মারয়াম এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাকে কয়েক বার সতর্ক করে। ২০১৮ সালে মারয়ামকে স্কুল কর্তপক্ষ বরখাস্ত করে।

বার্লিন ভিত্তিক এনজিও সংস্থা ইনসান-এর তথ্যমতে, ২০০৩ সালে ফেডারেল সাংবিধানিক আদালতের প্রতিক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা আইন প্রকাশিত হয়। এতে জার্মানির অঙ্গরাজ্যের আদালতে এমন আইন থাকলে কেবলমাত্র স্কাফ পরা নারীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের বিষয়টি সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে জার্মানির অনেক রাজ্য মুসলিম নারীদের বৈষম্য নীতি আড়াল করতে নিরপেক্ষতা আইন তৈরি করে এবং এটিকে সাংবিধানিক হিসেবে সাব্যস্ত করে।

কর্মক্ষেত্রে হিজাবের অধিকার আদায়ে মারয়াম শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হন। ২০১৮ সালে তিনি জার্মানির শ্রম আদালতের শরণাপন্ন হন। শেষ পর্যন্ত মামলাটি সেখান থেকে লুক্সেবার্গের ইউরোপিয়ান আদালতে পাঠানো হয়। অবশেষে গত জুলাই মাসে আদালতটি ইউরোপের সংখ্যালঘু মুসলিম নারীদের হিজাবের অধিকারকে পুরোপুরি পাল্টে দেয়।

জার্মানির মুসলিম নারীদের সর্ববৃহৎ সংগঠন দ্য অ্যাকশন এলিয়েন্স অব মুসলিম উইম্যান-এর নির্বাহি সদস্য ও সমাজবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ গিবরিল বুস নিয়াজি বলেন, ধর্মীয় পোশাকের জন্য কাউকে বরখাস্ত করার জন্য নিয়োগকর্তাদের ওপর ইউরোপীয় আদালত কঠোর আইনের শর্তারোপ করা হয়েছে। নিয়োগকর্তাকে নির্দিষ্ট হুমকি সুস্পষ্টভাবে দেখাতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধুমাত্র গ্রাহক না আসার আশংকা এক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জার্মানিতে বৈষম্য-বিরোধী সুরক্ষা আইন অত্যন্ত সুদৃঢ়। তাই আমরা আশাবাদী যে বেসরকারি খাতেও ধর্মীয় এবং আদর্শিক প্রতীকের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।’ মারয়ামের হিজাব ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি যে, জার্মান আদালত এখন খুব দ্রুত ও সুস্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ এখানে একটি বড় সম্ভাবনা রয়েছে যে, নিরপেক্ষতা আইনের কথা বলে অনেকে ‘স্কার্ফ নিষিদ্ধ করা হতে পারে’ বলে নিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে।’ সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com