কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি ১৪ বছর ধরে বিকল। এক্স-রে বিভাগের রিডিওগ্রাফারের পদটিও নয় বছর ধরে শূন্য।
এ অবস্থায় উপজেলার দেড় লক্ষাধিক লোকজনকে এখানে চিকিৎসা নিতে এসে পড়ে বিরম্বনায় । তারা চিকিৎসকের পরামর্শে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে গিয়ে বিভিন্ন বে-সরকারি কিনিক কিংবা ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায় , ২০০৭ সালের ৮ আগষ্ট কাজ করার সময় হঠাৎ এক্স-রে মেশিনটিতে সমস্যা দেখা দেয়। এর পর থেকে এক্স-রে মেশিনটি বন্ধ। হাসপাতাল কতৃপক্ষ এটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন্ত উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ ১৪ বছরেও এক্স-রে মেশিনটি মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় হাসপাতাল গেলে সিংপুর গ্রামের খলিল মিয়া (৫০) সঙ্গে কথা হলে, তিনি বলেন- বুকের বাম পাশে বেদনা করছে তাই জারের (ঠান্ডার) মধ্যে হাসপাতাল আইছি চিকিৎসা করতে। ডাক্তার সাবরা আমাকে বলে বুকের এক্স-রে করুন লাগব। হাসপাতালের এই মেশিন নাকি নষ্ট, তাই শহরে গিয়া করান লাগব। পরে আবার ডাক্তার সাবকে দেখানো লাগব।
নিকলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বলেন , দেড় লক্ষাধিক লোকের জন্য এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ দিন ধরে নষ্ট থাকায় এলাকার জনগন স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে একটি নতুন এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ ও একজন রেডিওগ্রাফার নিয়োগ দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। উপজেলা হাসপাতালের আরএমও সালেহ উদ্দিন আকবর বলেন , এক্স-রে মেশিনটি বিকল থাকায় এ উপজেলার দরিদ্র জনগনকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমি একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।এর মধ্যে এক্স-রে মেশিনটি মেরামতের জন্য এখন পর্যন্ত কোন মেকানিক আসেনি। মেশিনটি মেরামত হলেই রেডিওগ্রাফার নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন মজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে ।