কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাল দৌড় প্রতিযোগিতা। এ দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে নারী-পুরুষ, শিশুসহ নানান বয়সী হাজারো মানুষ আলমদী গ্রামের ফসলী জমিতে ভিড় করেন।
এক সময়ে গ্রামাঞ্চলে বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা ছিল। গ্রামের সহজ সরল লোকজন দলে দলে দূরদূরান্তে গিয়ে এসব বিনোদন উপভোগ করতেন। আকাশ সংস্কৃতির যুগে এখন আর তেমন গ্রামীণ বিনোদনের আয়োজন নেই। হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীন বিনোদনের মাধ্যম। হারিয়ে যাওয়া তেমনি একটি মাধ্যম হচ্ছে হালদৌড় প্রতিযোগিতা।
প্রতি বছর আমন ধান কাটার পর হেমন্তের বিকেলে হালদৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন হতো। গ্রামের নানান বয়সী মানুষ দলে দলে দূরদূরান্তে গিয়ে সে দৌড় উপভোগ করতো।
গ্রামের সাধারণ মানুষকে বিনোদন দিতেই গতকাল বিকালে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আমলদী গ্রামের বিশাল কৃষি জমিতে এ দৌড়ের আয়োজন করা হয়েছে। এ দৌড় প্রতিযোগিতায় মোট ছয়টি হাল নিয়ে ছয়জন কৃষক অংশ নেন। কৃষক হালের দুটি গরু, জোয়াল ও মই নিয়ে এ হালদৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন।
নানান বয়সী মানুষ হালদৌড় প্রতিযোগিতা দেখে উচ্ছ্বসিত। তারা এ প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি জানান। হালদৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজকরা জানান, বিলুপ্ত হতে যাওয়া হালদৌড় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানুষকে বিনোদন দিতে এবং সমাজ থেকে অপকর্ম বিদায় করতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকরা।