রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
সংকট পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু কিশোরগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ২৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার তাড়াইলে দারুল কুরআন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি হোসেনপুরে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নেপালের বন্যা: জলবায়ু পরিবর্তনের সীমান্তহীন হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে টেপ লাগানো লাশ উদ্ধার কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও চড়া ডিম-মুরগির দাম বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন পাস

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচন কমিশন গঠন আইন পাস

সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (ইসি) এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিধান রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ পাস হয়েছে।

এর মাধ্যমে দীর্ঘ কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন আইন প্রণয়ন হলো।বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আইনটি পাসের জন্য প্রস্তাব করলে তা কন্ঠ ভোটে পাস হয়।

 

এর আগে, এই বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করা হয়।

এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এর আগে, ২৩ জানুয়ারি আইনমন্ত্রী বিলটি উপস্থাপন করলে তা আইন, বিচার ও সংসদ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানা হয়। সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য। বিলটি বৃহস্পতিবার পাসের জন্য উপস্থাপন করা হলে এর পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তারিত আলোচনা ও বিতর্ক হয়।

এ সময় আইনমন্ত্রী কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করেন। এরপর এটি পাস হয়।

এই আইন প্রণয়নের জন্য আনা বিলে দুইটি সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করে সেটি পাস করা হয়। সার্চ কমিটিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত দুই বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে একজন নারী রাখার বিধান যুক্ত করা হয়।

এছাড়া সার্চ কমিটির কাজ ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে কিন্তু সংসদে উত্থাপিত খসড়া বিলে ১০ কার্যদিবস ছিল। এই দুটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। বিলটি পাস হওয়ার সময় সংসদ সদস্যদের (এমপি) মধ্য থেকে অন্যান্য সংশোধনী প্রস্তাবের সঙ্গে এ দুইটি সংশোধনীর প্রস্তাব এসেছিল।

বিলটি পাস হওয়ার আগের বিলটি জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্যরা বিলের ওপর বেশ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব দেন। সেগুলো কন্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।  পাস হওয়া এ বিলটিতে রাষ্ট্রপতির সই করার পর গেজেট আকারে প্রকাশ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন কার্যকর হবে।

সংসদে উপস্থাপিত খসড়ায় প্রথমে বিলের নাম ছিল, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল’। সংসদে সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে এর নাম হয় ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল’।

ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন সার্চ কমিটিতে দুই জন বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে একজন নারী রাখার প্রস্তাব দেন।

আইনমন্ত্রী সেই প্রস্তাব গ্রহণে করেন এবং সংসদে তা ভোটে গ্রহণের মাধ্যমে আইনে যুক্ত হয়। এর ফলে ইসি গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে নাম সুপারিশের জন্য যে সার্চ কমিটি থাকবে সেই কমিটিতে একজন নারী সদস্য থাকবেন।

বিলে বলা হয়েছিল রাষ্ট্রপতি ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন, এর সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক। সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুই জন বিশিষ্ট নাগরিক। সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণের পর সার্চ কমিটিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ওই দুইজন বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে একজন নারী রাখার বিধান যুক্ত হলো।

বিলের খসড়ায় সার্চ কমিটির কাজ ১০ কার্যদিবস করার বিধান রাখা হয়েছিল। সেটি এখন ১৫ কার্যদিবস করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের এ সংক্রান্ত সংশোধনীটি প্রস্তাবটি গ্রহণ করে ১০ দিনের পরিবর্তে কাজের মেয়াদ ১৫ দিন করা হয়েছে।

এ বিলে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইতোপূর্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি এবং ওই অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বৈধ ছিল বলে গণ্য হবে এবং ওই বিষয়ে কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

বিলে প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে সিইসি এবং নির্বাচন কমিশনার পদে কোনো ব্যক্তিকে সুপারিশ করার ক্ষেত্রে তিনটি যোগ্যতা থাকতে হবে, তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। ন্যূনতম ৫০ বছর বয়স হতে হবে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি পদে তার অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এ বিলে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনে সিইসি এবং নির্বাচন কমিশনার পদের জন্য ছয়টি অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। যদি আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষিত হন। দেউলিয়া হওয়ার পর দায় হতে অব্যাহতি না পেয়ে থাকেন। কোনো বিদেশি রাষ্ট্র্রের নাগরিকত্ব নেন বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন। নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট-১৯৭৩ বা বাংলাদেশ কোলাবরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার-১৯৭২ এর অধীনে কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়ে থাকেন। আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করছে না, এমন পদ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কর্মে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন।

বিলে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুসন্ধান কমিটির কাজে সাচিবিক সহায়তা দেবে। খসড়া আইনে সার্চ কমিটির (অনুসন্ধান কমিটি) কাজ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই কমিটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে। আইনে বর্ণিত যোগ্যতা, অযোগ্যতা অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনাম বিবেচনা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।

এই অনুসন্ধান কমিটি সিইসি এবং কমিশনারদের প্রতি পদের জন্য দুই জন করে ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে। কমিটির গঠনের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে দেবে বলে খসড়া আইনে বলা হয়েছে। কারা থাকবেন সার্চ কমিটিতে থাকতে পারবেন সে সম্পর্কে বিলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের নাম সুপারিশের জন্য ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন।

এই কমিটির সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক। সদস্য হিসেবে থাকবেন- প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুই জন বিশিষ্ট নাগরিক। তিন জন সদস্যের উপস্থিতিতে কমিটির সভার কোরাম হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদান স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে, গণতন্ত্র সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে এবং জনস্বার্থ সমুন্নত হবে মর্মে আশা করা যায়।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com