বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
অভিন্ন সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে জাপান কিশোরগঞ্জে ইমরান হত্যা: অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, পুড়ল ৩ ঘর চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিককে রুশ বাহিনীতে নিয়োগ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে নিন্দা, প্রত্যাহার ও অপসারণের দাবি বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু নেপালের নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব সাইবার ঝুঁকিতে বন্ধের ৩ দিন পর সচল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিপীড়ন ‘দুঃখজনক ও লজ্জাজনক’: ধর্মমন্ত্রী

সলঙ্গা গণহত্যা দিবস আজ

মো: শাহাদত হোসেন, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে
সলঙ্গা গণহত্যা দিবস আজ
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী সলঙ্গায় (২৫ এপ্রিল ) এ দিনটিতে চালায় বর্বর গণহত্যা। পাকিস্তানি সৈন্যরা একযোগে ব্রাশ ফায়ারে সলঙ্গায় হত্যা করে দেড় শতাধিক  মুক্তিকামী ও নিরীহ মানুষকে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার পাটধারী, চড়িয়া শিকার কালিবাড়ী,চড়িয়া শিকার মধ্যপাড়া , শিকার মগড়াপাড়া, চড়িয়া  দক্ষিণপাড়া, গোলকপুর ও কাচিয়ায় চর গ্রামে প্রবেশ করে নারী-পুরুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাকবাহিনী।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গাজী সোহরাব আলী সরকার জানান, ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল পথিমধ্যে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল গোল চত্বরের অনতিদূরে পাটধারী নামক স্থানে রাস্তায় ব্যারিকেডের সম্মুখীন হয়ে যাত্রা বিরতি করে। তারা সন্ধান পায় পাটধারীর পূর্ব  পাশে অন্য একটি কাশিনাথপুর গ্রামের।এই গ্রামকেই পাবনা জেলার কাশিনাথপুর মনে করে পাক বাহিনী খুঁজতে থাকে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটি। সেখানে থেমেই অতর্কিতভাবে তারা মর্টারসেল ছুঁড়তে শুরু করে। শেল ফাটার শব্দে এলাকায় মহা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।পাকবাহিনী সূর্যোদয়ের পূর্ব হতে গুলি চালাতে শুরু করে এবং একটানা সকাল ৯ টা পর্যন্ত গুলি চালায় নিরীহ মানুষের উপর। ভস্মীভূত করে দেয় এলাকার ঘরবাড়ি। পশুত্বের হাত থেকে রেহাই পায়নি কোলের শিশু পর্যন্ত।
এ অবস্থায় পাটধারী, চড়িয়া কালিবাড়ী, মধ্যপাড়া , দক্ষিণপাড়া, গোলকপুর, ও কাচিয়ায় চর  গ্রামের মানুষ প্রাণের ভয়ে দিকবিদিক ছুটতে থাকে। পাকিস্তানী সেনারা কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে পাড়ায়-মহল্লায় হামলা চালায়। প্রথমে পাটধারী গ্রামে প্রবেশ করে যুবকদের ডেকে নিয়ে সাড়িবদ্ধ  ভাবে দাড়িয়ে ২৯ জনকে গুলি হত‍্যা করে। প্রাণ বাঁচাতে কিছু মানুষ দিশেহারা হয়ে চড়িয়া শিকার কালিবাড়ীর দক্ষিণে মাঠের মধ্যে আশ্রয় নেয়। হানাদার বাহিনী সেখানে গিয়েও হামলা চালায়।পাক সেনারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে চড়িয়া কালিবাড়ীর দিকে যায়। সেখানে হিন্দুপাড়ার ১৫ জনকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। কালিবাড়ী হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে ও অগ্নিসংযোগের পর চড়িয়া মধ্যপাড়ার দিকে অগ্রসর হয় হানাদার বাহিনী। এখানে কবরস্থান ও জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা ৫০/৬০ জন নিরীহ মানুষকে ধরে এনে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয়।
এদিন প্রায় দেড় শতাধিক নারী-পুরুষকে হত্যা করে পাকসেনারা। পরদিন বিকেলে কিছু লাশ জানাযা ছাড়াই মাটিচাপা দেওয়া হয়। আর অধিকাংশ শেয়াল কুকুর ও শকুনের খাদ্যে পরিণত হয়।
 আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও পাটধারী ও মধ্যপাড়া চড়িয়ার বধ্যভূমি ও শহীদ পরিবার আজও উপেক্ষিত। যাদের জীবনের বিনিময়ে রক্তস্নাত স্বাধীনতা লাল সূর্য তাদের কাছে আজও কেউ আসেনি সান্ত্বনার বাণী শোনাতে। শহীদ মিনারে স্থানীয় চড়িয়া জনকল্যান সমিতি দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচী হাতে নিলেও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কোনো কর্মসূচী গ্রহণ করেনি। শহীদদের পরিবার-স্বজনদের ইচ্ছে এই দিবসটি রাষ্টীয়ভাবে ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিবসটি পালনে যথাযথ উদ্যোগী হবে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com