মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
অভিন্ন সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে জাপান কিশোরগঞ্জে ইমরান হত্যা: অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, পুড়ল ৩ ঘর চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিককে রুশ বাহিনীতে নিয়োগ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে নিন্দা, প্রত্যাহার ও অপসারণের দাবি বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু নেপালের নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল তেল আবিব সাইবার ঝুঁকিতে বন্ধের ৩ দিন পর সচল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিপীড়ন ‘দুঃখজনক ও লজ্জাজনক’: ধর্মমন্ত্রী

সিফাত আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে নওগাঁয় মানববন্ধন

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৩ জুন, ২০২২
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে
সিফাত আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে নওগাঁয় মানববন্ধন

নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিফাত হোসেনকে (১৪) আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী আজহার আলী, সাজেদুর রহমানসহ অভিযুক্ত সকলের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নিহতের স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কীর্ত্তিপুর বাজারে স্কুলের সহপাঠী ও এলাকাসী ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নিহত সিফাতের বাবা মিজানুর রহমান ও মা সাজলী বেগম। মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, এলাকায় একটি কিশোর গ্যাং-এর নেতৃত্ব দিচ্ছে কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্মরণ শাহরিয়ার (১৫)। সে ও তার সঙ্গীরা নানা ধরণের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তারা প্রায় সময় শিক্ষার্থীদের মারধর করেন এবং নানাভাবে নির্যাতন করেন। এসব ঘটনায় স্কুলে বিচার দিলে প্রধান শিক্ষক তাতে কোনো কর্ণপাত করেন না। এর আগেও গত ১৭ ফেব্রুয়ারি স্কুলে করোনার টিাকার ডোজ নিতে গিয়ে স্মরণ ও তার সঙ্গীদের দ্বারা আমার ছেলে মারধরের শিকার হয়। এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে বিচার দিয়েছিলাম। কিন্তু স্মরণের বাবা (সাজেদুর রহমান) একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক হওয়ার কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমার ছেলেকে ভৎর্সনা করেন। এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও তাদের সহায়তাকারী হিসেবে শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

সিফাতের মা সাজলী বেগম বলেন, আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। তবে আমার ছেলের মতো আর কোনো মায়ের সন্তান যেন মানুষরুপী কিছু অমানুষের কারণে এভাবে কষ্ট নিয়ে পৃথিবী থেকে চলে না যায় সেই দোয়া করি। যাদের কারণে আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে তাঁদের শাস্তি চাই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নওগাঁ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেন আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে নিহত শিক্ষার্থীর বাবা ও স্কুলে হামলা চালিয়ে সহকারী শিক্ষক সাজেদুর রহমান ও স্কুলে ভাঙচুরের অভিযোগে অপর মামলাটি করেন প্রধান শিক্ষক আজহার আলী। সিফাতের বাবার করা মামলার কয়েকজন আসামি হাইকোর্টের আদেশে আগাম জামিনে রয়েছেন। বিষয়টি পুঙ্গনাপুঙ্গভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। খুব শিঘ্রই আদালতে এজহার দাখিল করা হবে। স্কুলছাত্র সিফাত আত্মহত্যার ঘটনায় গত ২জুন রাজশাহীর রাজপাড়া থানায় অস্বাভাবিক হত্যা মামলা ও নওগাঁর আমলী আদালতে গত ৯জুন মামলার গ্রহণের আর্জি দায়ের করেন নিহতের বাবা মিজানুর রহমান। পরে আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় দ-বিধির ৩০৬/৩৪ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনা ও সহায়তা করার অপরাধে ৮জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিষয়টি এজহার হিসেবে গ্রহণ করে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ। এই মামলার বাদী নিহতের বাবা মিজানুর রহমান।

আদালতে করা মামলার আর্জি সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে সকালে স্কুলের অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে কীর্ত্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিফাত হোসেনকে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্মরণ শাহরিয়ার, হৃতিক ও রিয়াদ হোসেন মারধর করেন। ঘটনাটি সিফাত তার পরিবারকে জানালে ওই দিনই সিফাতের বাবা মিজানুর রহমান প্রধান শিক্ষক আজহার আলীর কাছে অভিযোগ করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিষয়টিতে কর্ণপাত না করে উল্টো সিফাতকেও মারপিট করতে বলেন, নতুবা হাতে মেয়েদের চুরি পরে থাকতে বলেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী স্মরণ শাহরিয়ারের বাবা সাজেদুর রহমান শিক্ষার্থী সিফাতকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিদ্যালয় হতে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুবল ম-ল ও নজরুল ইসলামও সিফাতকে নিয়ে হাসাহাসি করেন। ন্যায়বিচার না পাওয়ায় অত্যন্ত মনোকষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরে ওই দিন রাতে গ্যাস বড়ি (কীটনাশক) খায় সিফাত। গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় প্রথমে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১জুন দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com