দেশে চালের অভাব কোন নেই বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেছেন- করোনার সময়ও আমরা মোকাবেলা করতে পেরেছি। আমরা আশা করছি কৃষকরা তাদের ধানে ন্যায্য মূল্য পাবে এবং ভোক্তারা সুবিধা পাবে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় নওগাঁ সার্কিট হাউস আগামী ১ সেপ্টেম্বর সারাদেশে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী এবং টিসিবি’র কার্ড ধারীদের মাঝে চাল ও আট বিতরণ উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে খাদ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন- ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৫৩১ মেট্রিক টন চাল মজুদ আছে। আরো দুইদিন চাল সংগ্রহের সময় আছে। এ দুইদিনে আরো প্রায় ৫০ হাজার চাল সংগ্রহ হবে। এতে করে আমরা শতভাগ চাল সংগ্রহ পুরন হবে বলে আশাবাদী। তবে খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় সংগ্রহ কম হয়েছে। তবে ৫০ শতাংশ সংগ্রহ হবে বলে আশাবাদী।
আমাদের হিসেবে বাহিরে বাজারে চালের দাম কেজিতে ৫-৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোক্তাদের কষ্ট না দিতে, মানুষ স্বাচ্ছন্দে জীবন এবং সাশ্রয়ি মূল্যে সারাদেশে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী চালু করা হচ্ছে।
পূর্বে ৮১৩টি ওএমএস কেন্দ্র চালু ছিল এবং ১ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করা হতো। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সারাদেশে ২ হাজার ৩৬৩টি কেন্দ্রে ২ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করা হবে। এছাড়া ঢাকা মহানগরিতে ৫০ টি ট্রাকে ৩০ টাকা কেজি দরে সাড়ে তিন মেট্রিক টন চাল বিক্রি হবে। টিসিবি কার্ডধারীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং মাসে ৫ কেজি করে ২ বার চাল বিক্রি হবে।
পরিশেষে মন্ত্রী বলেন- খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ১০ হাজার ১১০ জন ডিলারের মাধ্যমে ৫০ লাখ পরিবারের মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল বিক্রি হবে। খাদ্যবান্ধবদের জন্য স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ৮০শতাংশ যাচাই-বাছাই কাজ প্রায় শেষ। এতে করে অবৈধভাবে ব্যবহার করতে পারবে না।
এছাড়া এবছর আউশ ধান ভাল হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছে আমন ধানের চাল থেকে আউশের চাল অনেকটা ভাল। এ ধানে মরা দানা নাই। সেজন্য ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর সুবিধাভোগীরা বাজারে চাল কিনতে না গেলে স্বাভাবিক ভাবেই চালের দাম কমে আসবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।
এসময় নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দীন জলিল জন,জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলমগীর কবীর ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।