কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাপলা কিন্ডারগার্টেন এন্ড হাই স্কুল। শিক্ষার গণগতমান ও শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। যে লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছিল দিন যাচ্ছে আর সেটারি প্রতিফন ঘটছে। সরকার স্বীকৃত যে কোন পরীক্ষায় প্রতিবছরই শতভাগ পাস করে কৃতিত্ব অর্জন করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষাথী ফেল করার কোনো নজির নেই।
উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের মান্দারকান্দি চৌরাস্তা এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান। পাশ্ববর্তী উপজেলার দিগাম্বর্দী গ্রামের সিরাজ উদ্দিন নামে জনৈক এক ব্যক্তি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওই এলাকায় আলো ছড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিএসসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও ২০১৫ সাল থেকে চালু হওয়া মাধ্যমিক পর্যায়ের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ পাসের পাশাপাশি ভাল জিপিএ পাওয়ার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করে চলেছে।
সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে অনুষ্ঠতি এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয় থেকে মোট ৪৭জন পরীর্ক্ষাথী অংশ নেয়। যার মধ্যে সবাই পাস করেন। এর মধ্যে ৩০জন জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
২০২১ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ২৬ জন অংশ গ্রহণ করে ১০জন জিপিএ-৫ পান। পাশের হার শতভাগ। ২০২০সালের পরীক্ষায় ৪৭জন অংশ নিয়ে ২৪জন জিপিএ-৫ লাভ করেন। এছাড়া সবাই কৃতর্কায হন। এছাড়াও ২০১১সাল থেকে অনুষ্ঠিত হওয়ায় পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাস করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৬০০’র অধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তন্মধ্যে মাধ্যমকি পর্যায়ে শিক্ষার্থী আছেন ২০০’র মতো। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক, কর্মচারী রয়েছেন ৪২ জন। পাকুন্দিয়াসহ আশপাশের মনোহরদী, কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জে সদরসহ দূর-দূরান্তের বহু শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এখানে। তাদের জন্য রয়েছে আবাসিক ব্যবস্থা।
গত রবিবার সকালে সরেজজিনে বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখা গেছে, চারতলা ভবনের বিভিন্ন শ্রেণী কক্ষে পাঠদান চলছে। মনোযোগ সহকারে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের পাঠ্যদান অবলোকন করছেন। সুনশান পরিবেশে বিদ্যালয়টিতে প্রতিদিনকার কার্যক্রম চলছে।
এ ব্যাপারে শাপলা কিন্ডারগার্টেন এন্ড হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার গণগত মান নিশ্চিত করে অত্র অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে ফলে করার কোনো শব্দ নাই। সকল পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাসের পাশাপাশি ভাল ফলাফল অর্জন করছেন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এ ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছেন। এ জন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত সবাইসহ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অবদান অনেক।
তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বীকৃতি না থাকায় এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অন্য স্কুলের নামে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।