চট্টগ্রামে পাইকারি ওষুধের সবচেয়ে বড় বাজার নগরীর হাজারী গলিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। এসব ওষুধের দাম প্রায় ৪০ লাখ টাকা। ছবিলা কমপ্লেক্স নামে একটি ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার দুটি গুদাম থেকে ওষুধগুলো জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অভিযানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত ও আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব ওষুধ জব্দ করেন।
অভিযান শুরুর দিকে ৩টি ফার্মেসিতে ফিজিশিয়ানস স্যাম্পল রাখায় সর্বমোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু এরপর হাজারী লেনের ছবিলা কমপ্লেক্সে ঢুকতে গেলে দেখা দেয় বিপত্তি। সকল ফার্মেসিগুলো বন্ধ করে মালিকেরা মার্কেটের বাইরে অবস্থান নেয়। মার্কেট কমিটি, ফার্মেসি মালিক সমিতি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও দোকান খুলতে অস্বীকৃতি জানান মালিকরা। তখন কোতোয়ালি থানা থেকে ১২ সদস্যবিশিষ্ট সিএমপির আরেকটি দল অভিযানে যোগ দেয়। তখন ছবিলা কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার একটি এবং চতুর্থ তলার একটি গোডাউনের তালা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত। তালা ভেঙে দুই গোডাউন থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার অনিবন্ধিত ওষুধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জব্দকৃত ওষুধগুলো বিনষ্ট করা হয় এবং ফিজিশিয়ানস স্যাম্পলগুলো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত বলেন, অভিযান পরিচালনার সময় অবৈধ ওষুধের গোডাউনগুলোর মালিককে পাওয়া যায়নি। তাদের সম্পর্কে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। পরে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভবনের মালিক গোডাউন দুটি তালাবদ্ধ করে রেখেছেন।
তিনি বলেন, মূলত এগুলো বিদেশি ওষুধ (আনরেজিস্ট্রার্ড)। বাংলাদেশের বাজারে বিক্রির জন্য নিবন্ধন থাকতে হয়। এসব ওষুধের মোড়কে কোনো নিবন্ধন নম্বরও নেই। বেশিরভাগ ভারত ও থাইল্যান্ডের ওষুধ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি আশীষ ভট্টাচার্য বলেন, ‘দুই একজন অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে আমাদের হাজারী গলির সবার বদনাম হয়। প্রশাসনের এরূপ অভিযানে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।’