কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কৃষি কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ৩৭পদের মধ্যে ১৯ টি পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রণোদনা দান মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও দাপ্তরিক কাজকর্ম নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
সিংপুর গ্রামের কৃষক মোঃ আলতু মিয়া বলেন, বোরো ধানক্ষেতে রোগবালাই দেখা দেয়। রোগবালাই দমনে পরামর্শের জন্য কৃষি কার্যালয়ে একাধিকবার গিয়েও কোনো সহযোগীতা পায়নি। এতে ফসলের অনেক ক্ষতি হওয়ার আশংঙ্কা করছি। এ ছাড়া আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ সম্পকে পরার্মশের জন্য সময়মতো কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে পাওয়া যায় না।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ কার্যালয়ে কর্মকর্তা ও কমচারীর পদ ৩৭টি। এর মধ্যে ১৮টি পদে কর্মকর্তা ও কমচারীরা কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ টি পদ শূন্য হয়েছে। এখানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ২১টি পদে কর্মরত আছেন ১১ জন। ১০ টি পদ প্রায় তিন বছর ধরে শূন্য। এ ছাড়াও উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, অফিসসহায়ক , কৃষিসম্পসারণ কর্মকর্তা, করণিক ও কম্পিউটারস সহকারী কৃষিকর্মকর্তা, অফিস কাম মুদ্রারক্ষক, মেকানিক, পি পি এমসহ ১৯ টি পদ প্রায় তিন বছর ধরে শূন্য রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ কার্যালয়ের দুজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা থাকার কথা। এখন আছে একজন করে। তিনজনের কাজ একজনের পক্ষে ভালোভাবে করা সম্ভব নয়। তারা আরও বলেন, নিজেদের ইউনিয়ন ছাড়াও অন্যান্য ইউনিয়নে তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে তদারকির কাজ। পরার্মশ ও সহযোগিতা থেকে কিছুটা বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, কৃষিকর্মকর্তার অনেকগুলো পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকায় তার উপজেলায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের উন্নত ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন, ফসল আবাদে সার্বিক তদারকি এবং ফসলের রোগবালাই দমনে পরামর্শ কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। মোঃ বেলায়েত হোসেন আরো বলেন, তার কার্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর ও অন্যান্য পদের লোক না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম তাকেই করতে হচ্ছে। এসব করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
কৃষক ও কৃষিসংক্রান্ত পরামর্শের মতো মূল কাজগুলো যথাযথ ও ভালোভাবে করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব শূন্য পদে লোক দেওয়ার জন্য কৃষিসম্পাসারণ অধিদপ্তরে কয়েকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্ত কাজ হচ্ছেনা।