নিকলী-গুরুইয়ের সড়কের দৈর্ঘ্য মাত্র সাড়ে পাঁচ কি.মি। কিন্তু সড়ক জুড়ে রয়েছে অসংখ্য গর্ত ও ভাঙা। এতে নিকলী উপজেলা সদরের সঙ্গে গুরুই ও ছাতিরচর দুই ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি সংস্কারের অভাবে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গুরুই ও ছাতিরচর ইউনিয়নের লোকজনের। ওই দুই ইউনিয়নের লোকজনের সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। এখন নিকলী সদরে আসতে সময় বেশি লাগছে ও টাকাও খরচ হচ্ছে বেশি। ছাতিরচর ও গুরুই ইউনিয়নের জনসাধারণ শুকনা মৌসুমে নৌকা ছাড়া সড়ক পথে চলাচলের জন্য নিকলী সদর ও কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে যাতায়াতে জনসাধারণ সড়কটি ব্যবহার করে। কিন্তু সড়কে অসংখ্য গর্ত থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলতে হচ্ছে যাত্রীদের।
এছাড়া যানবাহনের যন্ত্রপাতিরও ক্ষতি হচ্ছে। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। নিকলী-গুরুই সড়কের পাশে রয়েছে গুরুই ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। ওই কেন্দ্রে প্রতিদিন শতাধিক রোগী আসেন। গুরুই ইউনিয়নের অনেক কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী আসেন নিকলী সরকারী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ কলেজে। এছাড়াও গুরুই সড়কের ডান পাশে রয়েছে নারায়ণ গোস্বামীর আখড়া। ওই আখড়ায় প্রতিদিন কয়েক’শ ভক্ত আসা-যাওয়া করেন। আরো রয়েছে গুরুই ইউনিয়নের খান বাহাদুর উলু খানের মসজিদ। এটি দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসেন। সড়কে দুরবস্থার কারণে প্রতি মুহূর্তে ভোগান্তি পোহাতে হয় দুই ইউনিয়নের জনগণকে। ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইয়ার খাঁন চৌধুরী ও গুরুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তোতা মিয়া বলেন , সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় দুইটি ইউনিয়নের লোকজন উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগর করতে মারাতœক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ২৬ জানুয়ারি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা করেছি।
নিকলী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সামছুল হক রাকিব বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) বলেন, সড়কটি নতুন করে সংস্কার করার জেলা প্রকৌশলী বরাবর একটি লিখিত প্রস্তাপ পাঠানো হয়েছে। সে লক্ষ্যে এ অর্থবছরে সড়কটি নতুন করে সংস্কার করার পরিকল্পনা রয়েছে।