রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৬ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
সংকট পুঁজি করে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু কিশোরগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ২৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার তাড়াইলে দারুল কুরআন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি হোসেনপুরে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নেপালের বন্যা: জলবায়ু পরিবর্তনের সীমান্তহীন হুমকি ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে টেপ লাগানো লাশ উদ্ধার কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও চড়া ডিম-মুরগির দাম বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু

পাকুন্দিয়ায় নরসুন্দা নদী খননের মাটি বিক্রি করছে চেয়ারম্যানের ভাই

মো: মুঞ্জুরুল হক মুঞ্জু, পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে
পাকুন্দিয়ায় নরসুন্দা নদী খননের মাটি বিক্রি করছে চেয়ারম্যানের ভাই

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের দগদগা এলাকায় নরসুন্দা নদী খননের মাটি কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এই সুযোগে শক্তিশালী একটি চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা নদীর দুই পাড়ের মাটি বিক্রি হওয়ায় বর্ষার সময়ে আবাদি জমিসহ ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার আশংকা করছে নদীর দুই পারের মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ(এলজিইডি) ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভা যৌথভাবে নদী খননের কাজটি করলেও এরপর আর এ বিষয়ে কোনো খোঁজ খবর নেননি। ফলে নদীর দুই পাড়ের মাটি বিক্রির হিড়িক পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বুলবুল আহমেদের ছোট ভাই মো. জুয়েল মিয়া চেয়ারম্যানের প্রভাব কাটিয়ে দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় চেয়ারম্যানের ভাইয়ের বিরুদ্ধে কেউ সরাসরি মুখ খুলতে সাহস পান না। এ কারণে দিনের পর দিন নরসুন্দা নদী খননের দুই পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে স্থানীয়রা কয়েকবার মৌখিকভাবে স্থানীয় ক্ষমতাসীন নেতাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নদীর দক্ষিণ পাড়ের দুটি স্পটে দুটি এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে ১০-১২টি ট্রাক্টর বোঝাই করা হচ্ছে। এরপর বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। খালের দক্ষিণ পাড়ের অংশটি লম্বায় প্রায় তিন কিলোমিটার। এই তিন কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় এক কিলোমিটারের মাটি পুরোটাই বিক্রি করে ফেলেছে জুয়েল মিয়া। আরও তিনটি ভেকু ব্রীজের পশ্চিম পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।

এলাকাবাসী বলছেন, প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত দুটি ভেকু দিয়ে মাটি কেটে তা বিক্রি করা হচ্ছে। মাটি পরিবহনে ১০-১২টি ট্রাক্টর নিয়োজিত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫০ থেকে ৩০০ গাড়ি মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে নরসুন্দার উভয় পাড়ের মানুষ ভাঙ্গনের শংকায় রয়েছে। এছাড়া মাটি পরিবহনে ভারী যানবাহন ব্যবহার করায় নদীর পাড় দেবে ও গর্ত হয়ে গিয়ে ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নদীটি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলা ও কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের বুক চিরে নীলগঞ্জ হয়ে ইটনা উপজেলার ধনু নদীতে গিয়ে মিলিত হয়। মৃত প্রায় এ নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ‘নরসুন্দা নদী পুনঃখনন ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প ২০১২ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠকে (একনেক) অনুমোদন পায়। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১১০ কোটি টাকা। এরমধ্যে হোসেনপুর উপজেলা থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলা ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভা হয়ে নীলগঞ্জ পর্যন্ত ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৩ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করা হয়। জেলা প্রসাশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কাজ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভা। ২০১৬ সালের শেষের দিকে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। ভেকু দিয়ে খনন করা এসব মাটি নরসুন্দা নদীর দুই পাড় ঘেঁষে ওপরের জমিতে স্তুপ করে রাখা হয়।
ট্রাক্টর চালক জীবন মিয়া জানান, তারা ৪০০ টাকায় প্রতি গাড়ি মাটি কিনে ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

মাটি ক্রেতা ফারুক মিয়া বলেন, জুয়েলের সঙ্গে চুক্তি করে প্রতি গাড়ি মাটি ৮০০ টাকা করে কিনে ৩০ গাড়ি মাটি দিয়ে একটি গর্ত ভরাট করেছি। সেখানে একটি দোকান নির্মাণ করব।
মাটি বিক্রেতা জুয়েল মিয়া বলেন, আমি সরকারি কোনো মাটি বিক্রি করছিনা। আমি ব্যক্তি মালিকানাধীন মাটি বিক্রি করছি। নদী খননের এ মাটি কৃষকের জায়গায় রাখা হয়েছে। তাই এসব মাটি সরকারি নয় ব্যক্তি মালিকানাধীন।

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, জুয়েলকে মাটি কাটতে নিষেধ করে দিয়েছি। এখন মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম বলেন, প্রায় একমাস আগে ইউএনও ও এসিল্যান্ড মহোদয়কে সঙ্গে নিয়ে আমি সরেজমিনে গিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে এসেছিলাম। পুনরায় মাটি কাটার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হবে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোজলিন শহীদ চৌধুরী বলেন, পুনরায় মাটি কাটার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com