বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
ঢাকা মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত পাকুন্দিয়ায় ২১ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কিশোরগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু স্পেনে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত আইইডিসিআর পরিচালকের কক্ষে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাব কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে জাপান কিশোরগঞ্জে ইমরান হত্যা: অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, পুড়ল ৩ ঘর চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিককে রুশ বাহিনীতে নিয়োগ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগ

নওগাঁয় গ্রাহকের ১৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ডলফিন সংস্থা

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১০৯ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁয় গ্রাহকের ১৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ডলফিন সংস্থা

নওগাঁয় ‘ডলফিন সেভিং এন্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা গ্রাহকের প্রায় ১৫ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই সংস্থায় জীবনের শেষ সঞ্চয় রেখে সর্বশান্ত হয়েছে অন্তত ৬ শতাধিক গ্রাহক। টাকা ফেরত পাবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছে গ্রামের সহজ-সরল মানুষরা। কষ্টের অর্জিত টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছেন তারা।

নওগাঁ সদর উপজেলার ফতেপুর বাজারে ২০১৩ সালে সমবায় থেকে নিবন্ধন নিয়ে ‘ডলফিন সেভিং এন্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা গড়ে তুলেন একই গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক। যেখানে বিভিন্ন গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে স্থায়ী আমানত ও ক্ষুদ্র সঞ্চয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। গ্রাহকদের প্রতি লাখে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা দিতেন। হঠাৎ করেই এ সংস্থার পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক উধাও হয়ে গেছেন। গত এক সপ্তাহ থেকে ওই অফিসের প্রধান গেটে তালা ঝুঁলছে। গ্রাহকরা অফিসে এসে তালা দেখে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন গ্রাহকরা।

বাড়তি লাভের আশায় কেউ মেয়ের বিয়ের জন্য, কেউ বিদেশ যাওয়ার জন্য, কেউ বা গরু-ছাগল বিক্রির টাকা আবার কেউ দিনমজুরি করে টাক আয় করে জীবনের শেষ সঞ্চয় রেখেছিলেন এ সংস্থায়। মুনাফাও পেতেন তারা। তবে বিপত্তি বাঁধে মুল টাকা ফেরত চাইলে। এতে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠে পরিচালকের বিরুদ্ধে। হঠাৎ করে সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করে পরিচালক পালিয়ে যাওয়ায় এখন গ্রামের সহজ-সরল মানুষ পথে বসার উপক্রম।

স্থানীয়রা জানান- সঠিক তদারকির অভাবে নামে-বেনামে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বিভিন্ন সংস্থা। গ্রামের সরল-সরল মানুষদের বেশি লাভের প্রলোভন দিয়ে টাকা গুছিয়ে নিয়ে একসময় পালিয়ে যায়। এ সংস্থাটি অন্তত ৬ শতাধিক গ্রাহকের ১৫ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে।

ফতেপুর গ্রামের দিনমজুর আলম হোসেন কান্না জড়িত সুরে বলেন- অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চলে। দিন আনা দিন খাওয়া অবস্থা। দুই মেয়ে। তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গত কয়েক বছর বছরে এ সংস্থায় দেড় লাখ টাকা সঞ্চয় করেছিলাম। কিন্তু আমার সব শেষ হয়ে গেলো। এখন পথে বসা ছাড়া আর কেউ উপায় দেখছি না।

নাপিত সাইদুল ইসলাম বলেন- কাজ করে সংসারের খরচ বহনের পাশাপাশি প্রায় এক লাখ টাকা গুছিয়ে গত কয়েক বছর আগে এ সংস্থায় রেখেছিলাম। প্রতিমাসে দুই হাজার টাকা করে লাভ পেতাম। টাকার প্রয়োজন হওয়ায় গত কয়েক মাস ধরে ঘুরে ঘুরে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। গত কয়েকদিন থেকে অফিস তালাবদ্ধ। মালিক আব্দুর রাজ্জাককে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার বাড়িতেও তালা দেয়া।

গৃহবধু মাসুদা বানু বলেন- বাড়ির পাশেই এনজিও। বিদেশ যাওয়ার জন্য দুই লাখ টাকা রেখেছিলাম। বলতে গেলে আমার কাছ থেকে জোর করেই দশ মাস আগে টাকা নিয়েছে আব্দুর রাজ্জাক। লাখে আড়াই হাজার টাকা লাভ দেয়ার কথা থাকলেও দুই হাজার করে দিয়েছে। গত চার মাস থেকে মুল টাকা নেয়ার জন্য তাগাদা দিয়ে আসছিলাম। টাকা না দিয়ে সময়ক্ষেপন করছিলো এবং হুমকিও দিচ্ছিল। এখনতো পালিয়ে গেছে। টাকা পাবো কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পার করছি।

গৃহবধু নাহিদা আক্তার বলেন- স্বামীকে না জানিয়ে এ সংস্থায় দেড় লাখ টাকা রেখেছিলাম। স্বামী পরে জানতে পারে। এ নিয়ে ঝগড়াও হয়। আমরা যারা টাকা রেখেছে সবারই কষ্টের টাকা। কষ্টে উপার্জিত টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছি।

আব্দুর রাজ্জাক এর গ্রামের বাড়ি ফতেপুর পূর্বপাড়া গিয়ে দেখা যায় সেখানে কেউ না থাকায় বাড়ির মুল দরজায় তালাবদ্ধ। তবে আব্দুর রাজ্জাক এর বড় ভাইয়ের বাড়িতে বসবাস করছেন তার বাবা-মা। আব্দুর রাজ্জাকের মা মরজিনা বেগম বলেন- ছেলে এক সময় বিদেশ ছিলো। এরপর গ্রামে এসে বিভিন্ন দোকানে কাজ করে। এরপর একটি এনজিও (বেসরকারি সংস্থা) দেয়। গত কয়েকদিন থেকে ছেলেকে দেখা যাচ্ছে না। তবে কিভাবে কত টাকা লেনদেন করেছে একমাত্র ছেলেই বলতে পারবে বলে জানান তিনি।

নওগাঁ জেলা সমবায় অফিসার খোন্দকার মনিরুল ইসলাম বলেন- গত বছরের জুনে ওই সংস্থা পরিদর্শন করে ৩৮ লাখ টাকা আমানতের তথ্য পাওয়া যায়। তবে ৬ মাসের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকা কিভাবে লেনদেন হয়েছে যা অসম্ভব। তবে সমিতিকে সামনে রেখে বা সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ভাবে গোপনে আত্মসাতের জন্য লেনদেন করেছে কিনা সে বিষয়টিও দেখা হবে। গত কয়েকদিন আগে কয়েক ভুক্তভোগী এসে টাকা আত্মসাত করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে। যদি এ ধরণের কোন সত্যতা পাওয়া যায় তবে ওই সংস্থার নিবন্ধন বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com