কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার হাওড়ে বোরো ধান চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। আর এ কাজে বাড়ির ছেলে,বুরো,নারী,শিশু সহ সবাই সহযোগিতা করছেন চাষীদের। ভোরের কনকনে শীত উপক্ষো করে শিশু-কিশোর ও নারীরা ধানের চারা তোলছেন জমি থেকে। অনেকে ধানের আটি চারা ভ্যান, ঠেলা কিংবা মাথায় বোঝা বইয়ে নিয়ে যাচ্ছেন হাওরের জমিতে। সেচ দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছেন কেউ কেউ। কেউ জমির আল বাধছেন, জমি পাওয়ার ট্রিলারে চাষ দিচ্ছেন, জমির আগাছা পরিষ্কার করে জমি মই দিচ্ছেন। আর এভাবেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাওর পারের প্রতিটি চাষী পরিবারে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। আগামী ১০ দিন পর্যন্ত এ ব্যাস্ততা থাকবে নিকলীর হাওর পারের প্রতিটি চাষী পরিবারে।
গেল বছর ফসল তোলার পর থেকে ধানের দাম বেশী পাওয়ায় চাষীদের মধ্যে বোর ধান রোপনে বেশ উদ্দীপনা দেখা গেছে। বোর রোপন মৌসুম শুরুর দিকে হাওর থেকে দেড়িতে পানি নামায় কৃষক কিছুটা বিপাকে পরেছিলো।
নিকলী উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, গেল বছর গুলোতে উপজেলার নিকলীর বড় হাওর,সিংপুর হাওর, বরুলিয়ার হাওর, জোহানশাহী হাওর, ছাতিরচর হাওর,গুরুই হাওর, জারুইতলা হাওর,কারপাশা হাওরসহ ৫০ টি ছোট বড় হাওরে ৩৫ হাজার একর মত জমিতে বোর ধান চাষাবাদ হতো। গত বছর বোর ধানের ফলন ভালো হওয়ায় সেই সাথে ধানের বাজার দর অধিক থাকার কারণে চলতি বছর উপজেলার ৫০ টি ছোট বড় হাওরের পতিত জমিগুলো এবার কৃষক চাষাবাদের আওতায় এনেছেন। এতে করে চলতি বছর ৩৬ হাজার একরের চাইতে বেশী জমি চাষাবাদ হয়েছে। তাপমাত্রার কারণে এ সময়ে জমিতে চারার যে পরিমাণ কুশি থাকার কথা তা নেই। সার দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। তবে তাপমাত্রা বাড়ালে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ফসল কাটা মাড়াই পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক যেমন থাকবে তেমনি উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারনা কৃষি অফিসের।
সিংপুর গ্রামের কৃষক কাবিল সর্দার এর সাথে কথা হয় বোর চাষাবাদ নিয়ে। তিনি জানান, গত বছর তিনি ২ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জাতের ধান রোপন করেছিলেন। প্রতি একরে তিনি ৬০ মন ধান উৎপাদন করেছেন। গত বছর ফলন ভালো হওয়ায় এবার তিনি আরও ১৪ একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করছেন।
ধানের চারা রোপনের কাজে ব্যাস্ত বিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী সালমান, সফিকুল, কাজল মিয়া সহ একাধিক কিশোর জানায়, কয়েদিন ধরে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তারা আনন্দের সঙ্গেই ধানের চারা রোপণের কাজটি করছে। অনেক শিশু কিশোর নিজের কাজের পাশাপাশি অন্যের কাজও করছে। এতে করে কিছু বাড়তি টাকা আয় করছে শিশু কিশোররা।
নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নিকলীর বড় হাওরসহ সব হাওরে বোর ধান রোপন কাজ প্রায় ৯০% হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বোর রোপন শেষ হয়ে যাবে। কৃষক পরিবারের সবাই কৃষিকাজে ব্যাস্ততায় দিন পার করছেন। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বোর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবেএবং শেষ হাসিটা কৃষকের মুখে ফুটবে।