কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার ১৫০১টি অবৈধ জন্ম নিবন্ধের মামলা অবশেষে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানিয়েছেন, এ ধরনের একটি মামলা সিআইডিতে হন্তান্তর হয়েছে। । নিকলী থানার ওসি মোহাম্মদ এস এম শাহাদাত হোসেন নিশ্চিত করেন, মামলাটি গত ২৫ ডিসেম্বর সিআইডিতে চলে গেছে। এ মামলার সর্বশেষ তথ্য এখন সিআইডির কাছে।
অবৈধ জন্ম নিবন্ধনের দায়ে গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর (মামলা নং-১০) ইউডিসির উদ্যোক্তাদের নামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাজির ইয়াকুব আলী মিলন বাদি হয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন জারইতলার মনির হোসেন, গুরইয়ের ছাদেক মিয়া, ছাতিরচরের আতিকুল ইসলাম ও তামিমা আক্তার শিমু ও সিংপুরের বুরহান উদ্দিন। জানা গেছে, চার ইউপি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ স্বজনরাই চার ইউডিসি উদ্যোক্তা। ইতোমধ্যে এই মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে জামিনে আছেন চারজন।
আদালত সূত্রে জানা যায়,আসামিদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের ৪২০/৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/৩৪ পেনাল কোডে মামলা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যে মামলাটি হয়েছে তা অনেকটা স্বাভাবিক নিয়মে হয়নি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৫০১টি জন্ম নিবন্ধনের অস্তিত্ব রয়েছে।
প্রতিটি ইউনিয়নেই ইউডিসি, সচিব ও চেয়ারম্যান তিনজন যৌথভাবেই এই অপকর্মে জড়িত থাকলেও তথ্য গোপনের চেষ্টায় তারা অব্যাহত রয়েছেন। গত বছর ৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকসহ একাধিক দৈনিকে অবৈধ জন্মনিবন্ধনের সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। যেখানে জন্মনিবন্ধন তৈরির ক্ষেত্রে মা-বাবার সঠিক পরিচয় যাচাই করে চেয়ারম্যান ও সচিবের আইডির মাধ্যমে হয়ে থাকে, সেখানে কিভাবে এতগুলো লোক একের পর এক জন্মনিবন্ধন করে, তা রহস্যময়। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের অপকর্ম হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রথমে এ তথ্যের প্রমাণ মেলে প্রশাসনের একটি দফতরসহ স্থানীয়ভাবে। জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, জারইতলা ইউনিয়নে ৫৪৮ জন, গুরুই ইউনিয়নে ২৫৩ জন, ছাতিরচর ইউনিয়নে ৪৮৬ ও সিংপুর ইউনিয়নে ২১৪ জনের ভুয়া জন্মনিবন্ধন করা হয়।
ইউডিসির উদ্যোক্তা মনির হোসেনে সাথে কথা হলে তিনি জানান, এটি একটি সাজানো মামলা। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই আমাদের উপরে দায় চাপানো হচ্ছে। বিচারের আওতায় আসছে না প্রকৃত অপরাধীরা। প্রশাসনের নীবর ভূমিকায় স্বার্থসংশিষ্টতায় জড়িত থাকার বিষয়েও তারা ইঙ্গিত করেন। তবে মামলাটি সিআইডিতে যাওয়ায় ন্যায়বিচার পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলা সিআইডির ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ জুলফিকার আলী চৌধুরী জানান, সিআইডির হাতে জানামতে মামলাটি এসেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইসলাম বলেন, মামলাটির সঠিক তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে সঠিক তদন্ত হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
মামলা সিআইডিতে হস্তান্তরের বিষয়ে সিংপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীর, জারইতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজমল হোসেন আফরোজ, গুরুই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোতা মিয়া ও ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান চৌধুরী সত্যতা স্বীকার করেন। তারা বলেন, তাদের অবগত করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে।