কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদর বাজারে জনসাধারণের চলাচলের সরকারি রাস্তা দখল করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কাজী মারুফ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বাজারের বড় মসজিদ, পোস্ট অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও আশপাশের বাসাবাড়িতে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত সরকারি খাস জায়গা দখল করে তিনি দেয়াল নির্মাণ করেছেন।
এ ঘটনায় তাড়াইল বাজার বড় মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে কাজী মারুফকে অভিযুক্ত করা হয়।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে পরিদর্শনের পরও দেয়ালটি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। দেয়ালটি টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পরও কীভাবে সরকারি খাস জমিতে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে—এমন আলোচনা বাজারজুড়ে চলছে।
তাড়াইল বাজার বড় মসজিদের সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, “মসজিদের দক্ষিণ পাশের সরকারি খাস জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সেখানে আশপাশের বাসাবাড়ির শিশুরা খেলাধুলা করতো এবং মসজিদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যাতায়াতের জন্য লোকজন ওই পথ ব্যবহার করতেন। বর্তমানে কাজী মারুফ অবৈধভাবে ওই জায়গা দখল করে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। ইতোমধ্যে দেয়াল নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে কাজী মারুফ বলেন, “আমি আমার ক্রয় করা জমিতে দেয়াল নির্মাণ করেছি। এটি কোনো সরকারি খাস জায়গা নয়। সরকারি জমিতে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” তিনি আরও বলেন, “তাড়াইল বাজারে আরও অনেক খাস জমি বিভিন্ন ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন। সেগুলোও আগে মাপজোক করা হোক, তারপর আমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি নিজস্ব ক্রয় করা জমিতে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। মসজিদ কমিটি ও স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার নির্দেশে আগামী সপ্তাহে জায়গাটি মাপজোক করা হবে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিসান আলী বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দ্রুত জমি মাপজোক করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা হবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।