মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
ইশরাকের পদত্যাগপত্র পেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আজই প্রজ্ঞাপন হতে পারে সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল তাড়াইলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে হরিজন ও জেলে সম্প্রদায়ের নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ বদলগাছীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৪০০ দুস্থের মাঝে বস্ত্র বিতরণ ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশের গুঞ্জন বদলগাছীতে হত্যা চেষ্টার আসামিদের বাঁচাতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ পাকুন্দিয়ায় অটোবাইকের চাপায় ৬ বছরের শিশু নিহত ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৪তম সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা পেলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

গরমে এলএসডির প্রকোপ বৃদ্ধি, ভ্যাকসিন সরবরাহ সংকট

সঞ্জিত চন্দ্র শীল, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
  • ১২২ বার পড়া হয়েছে
গরমে এলএসডির প্রকোপ বৃদ্ধি, ভ্যাকসিন সরবরাহ সংকট

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত রোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি) উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রীষ্মকাল ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে এ রোগের প্রকোপ বেড়েছে বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।

পশুর হাটকে কেন্দ্র করে আক্রান্ত পশুর মাধ্যমে সংক্রমণ আরও বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলএসডি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত গরু, মহিষ ও ছাগলকে আক্রান্ত করে। এ রোগে আক্রান্ত পশুর শরীরে গুটি, ক্ষত, জ্বর, পা ফুলে যাওয়া, খাদ্যে অনীহা এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ফলে খামারিদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য গবাদিপশু ইতোমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অনেক খামারি ও গৃহস্থ পশুর শরীরে গুটি ও ক্ষত দেখা দেওয়ার পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত পশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হোসেনপুর উপজেলায় প্রায় ১০টির বেশি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে হোসেনপুর গরুর হাট, পিতলগঞ্জ গরুর হাট, চরপুমদী গরুর হাট ও সুরাটি গরুর হাট অন্যতম। এসব হাটে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক গরু কেনাবেচা হয়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এলএসডিতে আক্রান্ত কোনো পশু যেন হাটে আনা না হয়। কারণ আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে এসে সুস্থ পশুও দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে।

প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯২৯ সালে আফ্রিকার জাম্বিয়ায় প্রথম এ রোগ শনাক্ত হয়। পরে ধীরে ধীরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে লাম্পি স্কিন ডিজিজ শনাক্ত হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগটি বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে এটি গবাদিপশু খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা-মাছি ও অন্যান্য রক্তচোষা কীটপতঙ্গের মাধ্যমে এ রোগ দ্রুত ছড়ায়। এছাড়া আক্রান্ত পশুর লালা, খাবার, ব্যবহৃত সামগ্রী, এমনকি একই সিরিঞ্জ একাধিক পশুর শরীরে ব্যবহার করলেও ভাইরাসটি এক পশু থেকে অন্য পশুতে সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত ষাঁড়ের বীর্য প্রজননে ব্যবহার করলেও রোগ বিস্তারের ঝুঁকি থাকে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, আক্রান্ত পশু প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং খাদ্যের প্রতি অনীহা দেখা দেয়। পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে শক্ত গুটি সৃষ্টি হয়, যা ক্ষতে পরিণত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নাক ও মুখ দিয়ে লালা ঝরা, পা ফুলে যাওয়া এবং শরীরে পানি জমার মতো লক্ষণও দেখা যায়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে পশু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উৎপাদনশীলতা কমে যায়।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্ত পশুকে দ্রুত আলাদা করে রাখতে হবে এবং মশারি ব্যবহার করে মশা-মাছির সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে। খামার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আক্রান্ত পশুর খাবার, পানির পাত্র ও অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী সুস্থ পশুর সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। আক্রান্ত গাভীর দুধ বাছুরকে খাওয়ানো থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হোসেনপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোজাহিদুল কবির (শিহাব)  জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় দুই হাজার ও বেশি গবাদিপশু এলএসডিতে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলায় মোট গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ৬৩ হাজার। প্রতিদিনই আক্রান্ত পশু চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এলএসডি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। ভ্যাকসিনের কিছু আসছিল বর্তমানে ভ্যাকসিনের সীমাবদ্ধতা থাকলেও বড় ধরনের সংকট  রয়েছে। সরকারি হাসপাতাল ছাড়া বাহিরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছেভ্যাকসিন।

তিনি আরও বলেন, পশুর শরীরে এলএসডির লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর অথবা নিবন্ধিত প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রোগ প্রতিরোধে খামারিদের সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচর্যাই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। আক্রান্ত পশু হাটে না আনা, খামারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এলএসডির বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com