মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
হোসেনপুরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত নিকলীতে ইয়াবা সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড নিকলীতে নিখোঁজের একদিন পর অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার কিশোরগঞ্জে খাল থেকে মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩ তাড়াইলে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁর বদলগাছীতে কলার পাতা কাটা নিয়ে সংঘর্ষে বড় ভাই নিহত, আটক ২ পাকুন্দিয়ায় কাঁঠাল গাছ থেকে পড়ে বেপারির মৃত্যু হোসেনপুরে বজ্রপাতে নিহত প্রবাসী রাসেলের পরিবারে চরম মানবিক সংকট, সহায়তার আবেদন নওগাঁয় ৬ বছরে জব্দ ১৬ হাজার ৬১ পিস ফেন্সিডিল ধ্বংস

হোসেনপুরে বজ্রপাতে নিহত প্রবাসী রাসেলের পরিবারে চরম মানবিক সংকট, সহায়তার আবেদন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে
হোসেনপুরে বজ্রপাতে নিহত প্রবাসী রাসেলের পরিবারে চরম মানবিক সংকট, সহায়তার আবেদন

সৌদি আরবে বজ্রপাতে নিহত কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের প্রবাসী রাসেল মিয়ার পরিবারের সদস্যরা চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানোর কয়েক মাস পরও কাঙ্ক্ষিত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় তাঁর স্ত্রী ও চার সন্তান দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে রাসেল মিয়া পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে অনেক দিনই পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলে না। খাদ্য সংকটে কখনো কখনো একবেলা খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

চলমান বর্ষা মৌসুমে রাসেলের স্ত্রী শাহানাজ পারভীন চার সন্তানকে নিয়ে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার ১৬ দিন পর আমার মাও মারা যান। এখন মা-বাবা, ভাই-বোন—কেউ নেই। চার সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। অনেক সময় সন্তানদের ঠিকমতো খাবারও দিতে পারি না। সরকারি সহযোগিতার আশায় আছি, কিন্তু এখনো তেমন কোনো সহায়তা পাইনি। দুশ্চিন্তায় আমি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছি।”

নিহত রাসেলের বৃদ্ধ মা মোমেনা আক্তার বলেন, পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে অনেক সময় একবেলা খাবার খেয়েই দিন পার করতে হয়। অর্থাভাবে শিশুদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি সরকার এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১০ মার্চ সৌদি আরবে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রাসেল মিয়ার মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী ও চার সন্তান চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

ঈদ উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা নিহতের বাড়িতে গিয়ে জামাকাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। সে সময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সরকারি অনুদানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে পরিবারের দাবি, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো স্থায়ী সহায়তা তারা পাননি।

প্রতিবেশী আবু রায়হানসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাসেল মিয়ার পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং দেশের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িক সহায়তা নয়; পরিবারটির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন, বিধবা ভাতা, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা জরুরি।

হোসেনপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. মিসবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, “রাসেল মিয়ার পরিবার আজ চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও দ্রুত এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। চারটি শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “সরকারিভাবে পরিবারটিকে সাময়িক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে আমরা কাজ করছি।”

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com