বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টায় যশোর গিয়েছিলেন ইমন: পুলিশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ এমন কোনো ইস্যু নেই, যেটা সমাধান করা যাবে না গুলশান থেকে লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার নওগাঁর বদলগাছীতে ‘সততা স্টোর’ উদ্বোধন, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ পাকুন্দিয়ায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু কিশোরগঞ্জে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে গতি, আড়াই বছরে নিষ্পত্তি ৪,৮০৬ মামলা সাত বছরে ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে সড়কে হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা, আহত সারজিস-নাসীরুদ্দীন জাপানে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড সমুন্নত রাখতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, এই ‘ব্যর্থতার’ ফলে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া, আইনের শাসন দুর্বল হওয়া, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মিথ্যা অভিযোগে কারাবন্দি করা এবং অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ‘পুনরাবৃত্তির’ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

শাপলা চত্বর মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্র জমা পড়ার বিষয়টি সামনে এনে বুধবার (২৯ জুলাই) এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১৩ বছর আগে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় গত ২৭ জুলাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

ওই মামলার আসামিদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং দুই সাংবাদিকও রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত অসংখ্য নিপীড়নের জন্য দায়ীদের উপযুক্ত জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত, তবে অনেক বিচার প্রক্রিয়াই আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশের উচিত জরুরি ভিত্তিতে তাদের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করা এবং ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত ও মনগড়া অভিযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার কোনো সুযোগ যেন না থাকে, তা নতুন সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সে সময় আন্দোলন দমাতে দমন-পীড়নের ফলে ৮০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং হাজার হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয় বলে তুলে ধরা হয়েছে এইচআরডব্লিউর বিজ্ঞপ্তিতে।

ওই ঘটনাগুলোর পাশাপাশি শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের মত অন্যান্য নিপীড়নের ঘটনাগুলোর বিচার এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হচ্ছে।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১০ সালের মার্চ মাসে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। সে প্রসঙ্গ ধরে এইচআরডব্লিউ লিখেছে, ওই বিচার প্রক্রিয়ায় ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর হলেও তা পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের মধ্যে যোগসাজশ এবং মৌলিক আইনি সুরক্ষার অভাবে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল।

হাসিনা সরকারের পতনের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত ছয়টি রায় আসার কথা তুলে ধরে এইচআরডব্লিউ বলছে, এসব মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৬২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ৪২ জনের বিচার হয়েছে তাদের অনুপস্থিতিতে। এসব মামলার রায়ে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ট্রাইব্যুনাল পরিচালনা আইনে সংশোধনী এনে অপরাধের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনে, যাতে তা ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কাছাকাছি যায়’।

তবে এইচআরডব্লিউর মতে, এই সংশোধনীগুলো একই ধরনের অপরাধের বিচার করা আন্তর্জাতিক আদালতগুলোর সমতুল্য যথাযথ প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিগত মানদণ্ড নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সরকার আইনে আর কোনো সংশোধনী আনেনি।

মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, ট্রাইব্যুনাল পরিচালনা আইনে এখনো প্রসিকিউটরদের কোনো ধরনের প্রমাণের ভিত্তি ছাড়াই গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া, মাসের পর মাস লিখিত কারণ দর্শানো ছাড়াই আটকে রাখা এবং আলাদা কোনো আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন আপিলের (ইন্টারলোকিউটরি আপিল) অধিকার না দেওয়ার বিধান রয়ে গেছে। প্রসিকিউশন তাদের প্রমাণাদি জমা দেওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ পরই বিচার শুরু হতে পারে, যা আসামিপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয় না। তাছাড়া, আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচারে তাদের নিজের আইনজীবী নিয়োগের অধিকারসহ যথাযথ আইনি সুরক্ষা নেই এবং সাক্ষীদের জেরা করার ক্ষেত্রেও আইনজীবীদের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়।

শাপলা চত্বর মামলার প্রসঙ্গ ধরে এইচআরডব্লিউর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৩ সালের মে মাসে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের জেরে গত ১৪ মে দুজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সে সময় (২০১৩ সালে) অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে একাধিক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর কথা জানালেও প্রসিকিউটররা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সমর্থক একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং উপস্থাপক ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা তথ্য’ উপস্থাপনের মাধ্যমে সরকারকে হত্যা ধামাচাপা দিতে সহায়তার অভিযোগ আনেন। সাংবাদিকদের আইনজীবীরা এইচআরডব্লিউকে বলেছেন, প্রসিকিউটররা তাদের গ্রেপ্তারের কারণ সম্পর্কে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দেননি, যা সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৪ অনুচ্ছেদ এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের লঙ্ঘন।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, গত ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া শাপলা চত্বর মামলার অভিযোগপত্রে ওই দুই সাংবাদিককেও আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাশাপাশি গণহত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচআরডব্লিউ তাদের পর্যবেক্ষণে দেখতে পেয়েছে, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এবং বিচারকরা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের রেকর্ড করা এমন কিছু সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করছেন, যেগুলোর একই অনুচ্ছেদ একাধিক সাক্ষীর জবানবন্দিতে হুবহু প্রতিলিপি (কপি-পেস্ট) করা হয়েছে। এতে এসব সাক্ষ্যের সত্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এর উদাহরণ হিসেবে হাছান মাহমুদ চৌধুরী ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মামলার কথা বলেছে এইচআরডব্লিউ।

সেখানে বলা হয়, ওই মামলায় ২০২৪ সালের ১৬ ও ১৮ জুলাই এবং ৪ অগাস্ট চট্টগ্রাম শহরে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে প্রসিকিউশনের প্রমাণের মূল ভিত্তি হল ৫৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি।

দেখা গেছে, ১৪টি আলাদা জবানবন্দিতে ছয় লাইনের একটি অনুচ্ছেদ প্রায় হুবহু লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নাম উল্লেখিত সাতজন রাজনীতিবিদ তাদের ‘পরিকল্পনা, অর্থায়ন, উসকানি এবং নির্দেশনায়’ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ছয়জনকে হত্যা করেছেন। আরেকটি দীর্ঘতর অনুচ্ছেদ আরও নয়টি জবানবন্দিতে প্রায় একইভাবে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে অভিযুক্তদের মধ্যে ছয়জন বারবার ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ‘জঙ্গি, সন্ত্রাসী এবং সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং বাকি ১৬ জন অভিযুক্তকে ‘আন্দোলন দমাতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিরীহ, নিরস্ত্র, শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থী ও জনতাকে হত্যা ও নির্যাতনের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।

এইচআরডব্লিউ বলছে, ওই মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর আইনজীবীরা সাংবাদিকদের একটি অডিও রেকর্ডিং সরবরাহ করেছেন।

সেখানে অভিযোগ করা হয়, ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর চলতি বছরের শুরুতে ১ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে ফজলে করিমের জামিনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওই তথ্য ফাঁসের পর ওই প্রসিকিউটর পদত্যাগ করলেও চিফ প্রসিকিউটর অফিস এখনো এর তদন্ত শেষ করতে পারেনি। অথচ বিচারকরা মামলার অভিযোগ গঠনের কাজ চালিয়ে গেছেন এবং আগামী ৬ অগাস্ট থেকে বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে অনুধাবন করতে হবে যে, আওয়ামী লীগ যেরকম রাজনৈতিক ‘উইচ-হান্ট’ চালিয়েছে, সেই একই নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি তারা করতে পারে না। কিন্তু হুবহু নকল করা সাক্ষীর জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে অভিযোগ আনা হলে তা একটি বিশ্বাসযোগ্য বিচারপ্রক্রিয়ার ঘাটতিই ইঙ্গিত দেয়, যা আবারও ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার এবং বাংলাদেশের মানুষের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com