চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টায় সহযোগীদের নিয়ে যশোর গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ জুলাই) যশোর জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কাছে খবর ছিল সন্ত্রাসী ইমন প্রাইভেট করে করে যশোরের দিকে আসছে। গত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিন সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইমনছাড়া গ্রেপ্তার বাকি তিনজন হলেন–মোহাম্মদ শামীম, মোহাম্মদ সাফায়েত হোসেন ও আলভি ইসলাম আলিপ।
বুধবার সকাল ১০টায় তাদের চট্টগ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে যশোরের পুলিশ সুপার জানান।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য যশোর এসেছিলেন।
জোড়া খুনসহ ১৮ মামলার আসামি ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। পুলিশ বলছে, চট্টগ্রামে সাজ্জাদের হয়ে নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন ইমন।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবির ঘটনায় ইমনের নাম আসে। তাকে ধরতে বেশকিছু দিন ধরে গলদঘর্ম হচ্ছিল চট্টগ্রামের পুলিশ।
ইমন গত ১৩ জুলাই বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন) নামে একটি ইন্টারনেট সেবার কোম্পানির মালিককে ফোন করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় ওই কোম্পানির অফিসে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
এর আগে গত জানুয়ারিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবর রহমান চৌধুরীরর বাসায় গুলির ঘটনাতেও ইমনের নাম আসে।
এছাড়া গত বছরের ৩০ মার্চ চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মুখে প্রাইভেট কারে গুলি করে জোড়া খুন, ২৩ মে পতেঙ্গা সৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে খুন, ৫ নভেম্বর সরোয়ার হোসেন বাবলা খুনের ঘটনার আলোচিত নাম মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন।