রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের পর একই স্থানে সংগঠন দুটির কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেছে প্রশাসন।
ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারির আবেদন জানিয়ে তাজহাট থানার ওসির কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখনও আমাদের কমিশনার স্যার এটার অনুমতি দেননি। তাই ১৪৪ ধারা জারি করা সম্ভব হয়নি।”
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত চলে এই উত্তেজনা। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান জানান, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে টাঙানো একটি ব্যানার নিয়ে ‘ছাত্রদলের আপত্তি’কে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুপক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
এর মধ্যেই ১৪৪ ধারা জারির আবেদন জানিয়ে প্রশাসনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচ শিক্ষার্থী গুরুতর আহতসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। আহতরা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এতে বলা হয়, ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল একই স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করায় ক্যাম্পাসে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারিসহ প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে।