কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে অবৈধভাবে কৃষি জমি ও নদী থেকে মাটি কাটার দায়ে ১নং জিনারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ বাহার উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর জিনারী এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ রেকসোনা খাতুন।
দণ্ডপ্রাপ্ত বাহার উদ্দিন জিনারী গ্রামের মৃত গোলাম আলীর ছেলে এবং জিনারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র জিনারী ইউনিয়নের চর জিনারী এলাকায় নদীর মাঝপথে অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে ফসলি জমি ও নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছিল। এতে একদিকে আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছিল, অন্যদিকে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহায়তায় সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে ঘটনাস্থলে অবৈধভাবে মাটি কাটার সত্যতা পাওয়া যায়।
এসময় ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩)’ এর ১৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ঘটনাস্থলেই অভিযুক্ত বাহার উদ্দিন নিজের দোষ স্বীকার করলে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ রেকসোনা খাতুন বলেন, “একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদীর মাঝপথে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে ব্যবসা করে আসছিল বলে অভিযোগ ছিল। আজ হাতেনাতে ধরা হয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে আবাদি জমি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে যারা বিল, নদী বা কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে ব্যবসা করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
এলাকাবাসী প্রশাসনের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি ব্যবসা করছিল। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে কৃষকরা রক্ষা পাবে।