হৃদয় আজাদ:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কালিকাপ্রসাদে সরকারি সড়ক দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে । সড়কটিতে স্থাপনা নিমার্ণ হলে এলাকাবাসি, পথচারী ও স্কুলগামী শত শত শিক্ষার্থীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। এতে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা । এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফিরোজা বেগম প্রতিকার চেয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবীরসহ স্থাপনা নির্মানকারী সোহাগ মোল্লা ও তার স্ত্রী শায়লা বেগম কে অভিযুক্ত করে ভৈরব উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ।
অভিযোগে জানাযায়, কালিকাপ্রসাদ মিয়া বাড়ী থেকে কালিকাপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত চলাচেেলর জন্য (২০১৭-১৮) অর্থ বছরে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীর আওতায় টি,আর কাবিখার বরাদ্ধ ও সাংসদের বরাদ্ধের আওতায় একটি কাচাঁ সড়ক নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এলজি আর ডির তত্বাবধানে সড়কটি পাকা করনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্ত স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবিরের প্ররোচনায় ও শক্তিতে সোহাগ মোল্লা ও তার স্ত্রী শায়লা বেগম কাচাঁ সড়ক কেটে সড়ক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে আসছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহাগ মোল্লার বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি । এমনকি তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবির জানান, সোহাগ মোল্লা তার জমিতে তার নির্দেশে দেয়াল নির্মাণ করছে । সরকারি কোন হালটের জায়গা এখানে নেই । এ বিষয়ে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক রাসেল মিয়া জানান, উভয় পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং সড়কে দেয়াল নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী ইউপি সদস্য ফিরোজা বেগম জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবীরের প্ররোচনা ও শক্তিতে সোহাগ মোল্লা সড়ক কেটে ও দখল করে স্থাপনার দেয়াল নির্মাণ করছে । এতে বাধা দিলে তারা আমাকে হুমকি-ধামকিসহ অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করেন । সড়কটিতে দেয়াল নির্মাণ হলে জনগণের চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি হবে । তাছাড়া সড়কটি পাকাকরনের জন্য এলজিআরডির তত্বাবধানে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে । বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি বরাবার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি ।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক মিয়া জানান, একসময় মিয়া বাড়ি থেকে হাই স্কুল পর্যন্ত কোনো সড়ক না থাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। সড়কটি নির্মাণ হওয়ায় এ এলাকার জনগণের ভোগান্তির শেষ হয়েছে। তবে সড়কটি কেটে একটি প্রভাবশালী মহল দখলের চেষ্টা করছে যা নতুন করে এলাকাবাসির ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় তহশিলদারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমিন।