কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ধনু নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়। এ ছাডাও নদীতে জেগে ওঠা চরের বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কেটে একটি চক্র ট্রলারে করে নিয়ে ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করছে।
অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ার অপরাধে ১৫ জন শ্রমিক এবং ৪ টি এক্সেভেটর (বেকু), ৭ টি লড়ি ও একটি বলগেড ট্রলার আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত ৫ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে নিকলী উপজেলার সিংপুর ধনু নদীর পাড় কেটে মাটি অবৈধভাবে কেটে নেওয়ার সময় খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামছুদ্দিন মুন্না ও নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শামসুল আলম ছিদ্দিকী সঙ্গীয় পুলিশ মাটিবোঝাই ৪ টি এক্সেভেটর (বেকু), ৭ টি লড়ি ও একটি মাটি ভর্তি বলগেড ট্রলার জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ কাজে নিয়োজিত ১৫জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোঃ রানা (৩৫), মোঃ আলমগীর(২৮), মিজান (৩০),মোঃ পারভেজ (৩০),মোঃ কামাল হোসেন (৩২), মোঃ সেজান মিয়া(৩৫), মোঃআবু মুছা শেখ (৪২), মোঃ আনসার(৩২),জামাল মিয়া (২৪),মোঃ সোহাগ (৩৩), রফিকুল (২৫), মাহবুব (২৮) ও রাসেলকে(৩০) ১৩ শ্রমিক দুই মাস করে কারাদন্ড দেওয়া হয় এবং বলগেডের তিনজনের নামে নিকলী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় লোকমান হোসেন (৩৫) ও মনির হোসেন (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। অপর আসামি জহির মোল্লা পালিয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় , নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা,মুন্সিগঞ্জ, ভৈরবসহ আশপাশ এলাকায় অন্তত ৫শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। প্রতিটি ইটভাটায় বছরে কমপক্ষে তিন লাখ ঘনফুট মাটির প্রয়োজন। এই ইটভাটাগুলোতে মাটির চাহিদার বড় অংশ পূরণ হচ্ছে হাওড় এলাকার নদীর পাড়কেটে এবং এই এলাকার জেগে উঠা চরের মাটি দিয়ে। আবার অনেক ইটভাটার মালিক তাঁদের নিজস্ব শ্রমিক ও ট্রলার পাঠিয়ে নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যামাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম সামছুদ্দিন মুন্না সতত্যা নিশ্চিত করে বলেন, তবে মাটি কাটা বন্ধে স্থানীয় লোকজনের সহায়তা পেলে এর সঙ্গে জডড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শামসুল আলম ছিদ্দিকী (ওসি) বলেন, দন্ডপ্রাপ্ত ১৩ জনকে মঙ্গলবার রাতেই কিশোরগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলা হওয়া গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে বুধবার (৬নভেম্বর) দুপুরের আদালতে পাঠানো হবে। তবে এ কাজে স্থানীয় কেউ জড়িত আছে কী না তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।