সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বাজারগুলোতে মালামাল বেচাকেনা ও সংরক্ষণে দোকানিরা ব্যাপক হারে প্লাস্টিকের বস্তার (মোড়ক) ও থলে এবং পলিথিন ব্যবহার করছেন। ২০১০ সালে সরকার পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহারে আইন জারি করে। আইনে বলা হয়েছে, পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করে যদি কেউ প্লাষ্টিকের মোড়ক বা পলিথিন ব্যবহার করে, তবে ওই আইনের ১৪ ধারায় তা দন্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার সদর বাজার, নতুন বাজার, মহরকোণা বাজার, দামপাড়া বাজার. মজলিশপুর বাজার, জালালপুর বাজার, আলিয়াপাড়া বাজার, বৌ বাজার, আসানপুর বাজার, সিংপুর বাজার, কূর্শা বাজার, পুড্ডা বাজার, জারুইতলা বাজার, সাজনপুর বাজার, গুড়ই নয়া বাজার ও ছাতিরচর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় সব মুদি দোকানে এবং চাল, ডাল, চিনি, মুড়ি, ভুট, ময়দা ও সারের দোকান এবং আড়তে প্লাস্টিকের বস্তায় মালামাল রাখা হয়েছে। প্লাস্টিকের বস্তা বা থলেতে ও পলিথিনেই দোকানিরা বিক্রি করছেন চাল, ডাল, চিনিসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিকলী সদর বাজারের কয়েকজন মোদি ব্যবসায়ী বলেন, পাটের বস্তার চেয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় পণ্য বেচাকেনা ও আনা-নেওয়া বেশি সুবিধাজনক। এ জন্য প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করছেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিটি বাজারের ৮০ শতাংশ দোকানি প্লাস্টিকের বস্তা নিষিদ্ধ হওয়ার কথা জানেন না। উপজেলার পুরাণ বাজারের চালের আড়ত গিয়াস উদ্দিন ও আলাল উদ্দিন বলেন, প্রায় তিন বছর আগে ইউএনও সাহেব একদিন বাজারে এসে বলে গিয়ে ছিল প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার না করার জন্য। কিন্ত চাল মিলের মালিকরা আমাদেরকে প্লাসিটকের বস্তায় চাল দেয়। আমরা কী করবো।
নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোঃ মাসুদ রানা বলেন, প্লাস্টিকের মোড়ক পচে না। এগুলো মাটিতে মিশে ফসল উৎপাদনকে ব্যাহত করে। এগুলোর বর্জ্যে দূষিত হয় পরিবেশ। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামছুদ্দিন মুন্না বলেন, প্লাস্টিকের বস্তায় চাল, ডাল, গম, সার ও চিনি সংরক্ষণ এবং বেচাকেনা নিষিদ্ধ। আইন ভঙ্গ করে প্লাস্টিকের মোড়ক, পলিথিন ব্যবহার করা হলে সে সব ব্যবসায়ীদের বিরোধে প্লাস্টিকের মোড়ক ব্যবহার বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।