আজ রোববার (৮ মার্চ) ছাত্র গণজমায়েত কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ছাত্র গণজমায়েত কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্ররা ক্লাস বর্জন করে কর্মসূচিতে যোগদান করে।
কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক ছাত্রবৃন্দের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার কামাল।
আজকের কর্মসূচীর পরে অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় নামে একজন তার ফেইসবুক পোষ্টে এই লিখাগুলো তুলে ধরেন। নিম্নে তা হুবহু তুলে ধরা হল-
শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে এখন ২০২০ সাল এসেও……
সরকারে থাকা সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাজাকার মুজাহিদ ও শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের প্রতিবাদে খেলার মাঠ রক্ষায় প্রাক্তন ছাত্র ভাইদের আহ্ববানে আমরা বর্তমান ছাত্ররা মাঠ অভিমুখ যাত্রা করি। পুলিশের তীব্র বাধায় সারা শহর প্রকম্পিত করি প্রতিবাদে। প্রাক্তন ভাইদের নির্দেশনায় ও তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ সাথে আবেগ অনুভূতির স্কুলের সম্মান ঐতিহ্য রক্ষায় নির্ভীক আপোসহীন হয়েই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছি। প্রশাসন ও সন্ত্রাসী হুমকি আন্দোলন ও ধারণকৃত লক্ষ্য থেকে বিন্দু পরিমান নড়াতে পারেনি বরং ভিতরের ক্ষোভের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর করেছে। সকল শিক্ষকরা বুকে টেনে বলেছেন, সবচেয়ে মন্দ বালকের স্কুল প্রতি ভালবাসা ও সম্মান রক্ষায় জীবনের হুমকি উপেক্ষা করে দুর্বার ভূমিকা আমাদের ভুল ভেঙ্গে দিয়েছে। মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করলেন ও উৎসাহ দিলেন। স্যারদের এই প্রেরণা সফলতার স্বপ্ন দেখিয়েছে। আন্দোলন, ধর্মঘট নেতৃত্বদান করায় কয়েক বার শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি, পুলিশ ধরে নিয়েছে থানায় তারপরেও কখনই ক্রেডিট নেইনি। আন্দোলন করেছি নিজের ক্রেডিট নেয়ার জন্য না, কেউ অবদান স্বীকার না করলেও বিন্দুমাত্র কষ্ট লাগবে না কারন মানুষের মুখে অবদান শুনতে প্রতিবাদ করিনি। আন্দোলন করেছি আবেগ অনুভূতি থেকে আর খেলার মাঠে একটি ইট পুততে দেয়নি। দুটি স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও আন্দোলনে একটি স্কুল কে বাধ্য করেছি কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করতে। কতিপয় মানুষের স্বার্থের জন্য বিয়াম ল্যাবরেটরি কে বাধ্য করাতে ব্যর্থ হয়েছি। ২ বছর ভাড়ার চুক্তিতে ছাত্রাবাসে কার্যক্রম চালু করে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল। সেনা সমর্থিত সরকার চলে আসায় আন্দোলন আর সম্ভব হয়নি।
আশায় ছিলাম প্রাক্তন সিনিয়র ভাইদের মুখের কথায় বিশ্বাসে, সরকার পরিবর্তন হলে শপথের প্রথম দিনেই বিয়াম স্কুল গুড়িয়ে দেয়া হবে। ২০০৯ সালে সৈয়দ আশরাফ ভাই মন্ত্রী হয়ে প্রথম আগমনে বিয়াম শব্দ উচ্চারণ করতেই উত্তরে নির্দেশ দিলেন বিয়াম ভেঙ্গে ফেলতে কিন্তুু দীর্ঘ ১১ বছর অদৃশ্য কারনে বাস্তবায়ন হয়নি।
আন্দোলনে থাকা সহযোদ্ধারা সরকার পরিবর্তন হলে বিয়াম স্কুলের বহাল দেখে ধারণা করে আমিও ব্যালেন্স হয়েছি, সরাসরি না বললেও আলোচনায় বিষয়টি উঠলে হতাশাজনক অনিহা বুঝতে পারি। ভীতরে রক্তক্ষরণ হয় যে, এখনো সফলতা পাইনি অথচ কয়েকবার নির্যাতিত হয়েও আপোসহীন থেকেছি, স্বার্থহীন থেকেও কতিপয় স্বার্থবাদী কাছে পরাজয় প্রতিটা দিন আমায় আঘাত করে। প্রতিদিনের পরাজয় আঘাত রূপ নিয়েছে মানসিক যন্ত্রনায় আর এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তির জন্য সফলতার স্বপ্নে অতীতে থাকা প্রাক্তন ভাইদের কাছে বেহায় মত বারবার আকুতি করেছি। কখনো উত্তরহীন নীরবতা, কখনো উত্তরে সম্ভব না, কয়েজন উত্তরে প্রবল ইচ্ছার পরেও অক্ষমতা স্বীকার করে উৎসাহ দেয়া ইত্যাদি। এসব দেখে অনেক সময় নীরবে কেঁদেছি, কখনো ভিতরে ক্রোধ ঘৃণার জন্ম দিয়েছে। কি পরিমান ঝুকি নিয়েছি তা এখন বুঝতে পারি। রাজাকার মুজাহিদ ও শিক্ষামন্ত্রী ও জামাতি প্রশাসন বিরোদ্ধে এভাবে অবস্থান নেয়ার পরিনাম ভয়াবহ হওয়া স্বাভাবিক ছিল। সেই সাথে নিজেও সহপাঠী জুনিয়র ছাত্রদের বুঝিতে ফেলেছিলাম। ওদের ইশরায় আমার মত শতাধিক সাজ্জাদ রাস্তায় লাশ বা গুম হলেও এটা তখন স্বাভাবিক বিষয়, বরং বেঁচে ছিলাম / অক্ষত আছি এটা অস্বাভাবিক। প্রাক্তনদের বিপরিত রূপ দেখে অনেক কিছু বলার ইচ্ছা থাকলেও চুপচাপ থেকেছি কারন আবেগ অনুভূতি বিহীন ব্যক্তিদের উচিত শুনিয়ে কি লাভ?
তারপরেও…. সংগঠিত করেছি আন্দোলন কয়েকবার স্রোতের বিপরিতে গিয়ে ধারাবাহিতা রক্ষা করতে পারিনি। সংগঠিত করার পরে অতীতের মুখের সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন মুখ। মাকড়শা মত নতুন চেষ্টায় অনেক অনেক প্রাক্তন ভাইদের সরাসরি বলেছি, প্রত্যক্ষ থাকবে বলেও অংশগ্রহণ করেনি।
২০০৬ সালে আন্দোলন করতে গিয়ে যখন বিপদের সম্মুখীন হয়ে জন্মদাতা পিতার অসহায় নির্বাক দাড়িয়ে থাকা মুখ এখনো জীবন্ত ভেসে আছে চোখে। আজ বাবা না ফেরার দেশে, যখনই নীরব থাকি বাবার সকল স্মৃতিগুলো ভেসে আসে। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সফলতা না পেলে যতদিন বেঁচে থাকব সংগঠিত করেই যাব।
ভিতরে চেপে রাখা কথাগুলো শেয়ার করেছি ক্রেডিট / একস্ট্রা মূল্যায়ন আশায় নয়, এমন প্রত্যাশা কখনই ছিলনা কখনই। সংগঠিত করেও কর্মীর হয়ে প্রোগ্রাম সফল করেছি, পত্রিকা মিডিয়া নিজের নাম কেটে অন্যদের নাম দিয়েছে যাতে উৎসাহ পেয়ে ধারাবাহিতা বজায় রাখে।
