বিশ্ব ব্যাপি মহামারী রুপধারনকারি করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯ এর বিস্তার প্রতিরোধে ভৈরব পৌরসভাকে কর্তৃপক্ষ ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি নোংরা পানি দিয়ে জীবাণুনাশক স্প্রে তৈরি করতে দেখা গেছে। পৌর শহরের স্টেশন রোড সংলগ্ন পৌর কবরস্থানের পূর্ব পাশের নোংরা ডোবা থেকে জীবাণুনাশক স্প্রে তৈরির জন্য পাইপ এর সাহায্যে পানি সংগ্রহের চিত্র ধরা পড়ে গণমাধ্যমের ক্যামেরায়। করোনা ভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে জীবাণুনাশক স্প্রে কর্মসূচীর ব্যানারে আজ বুধবার দুপুর দুইটার দিকে ময়লার উপর দিয়ে পাইপা এনে ডোবার পার থেকেই পানি পৌরসভার গাড়িতে সংগ্রহ করা করছিলেন দুজন শ্রমিক। জানতে চাইলে তারা বলেন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এই জায়গা থেকে পানি সংগ্রহ করা হচ্ছে। যদিও পৌর মেয়র বলছেন এব্যাপারে তিনি অবগত নন। পৌর কর্তৃপক্ষের এমন কর্মকান্ডে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেহন মহলের লোকজন।
এছাড়াও করোনা ইস্যুতে ভৈরবে পৌরকর্তৃপক্ষের কর্মসূচী বা প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ চোখে পড়ে অনেকটা দেরিতে । গেল শনিবার মেয়রের উদ্যোগে পৌরসভার সামনে পথচারিদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি শহরে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ময়লা আবর্জনার পানি দিয়ে তৈরিকৃত জীবাণুনাশক স্প্রে কতটা উপকারে আসবে বা জীবাণুনাশ আবার জীবাণু সৃষ্টিতে সহায়ক হয়ে না যায় তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সচেতন মহলের লোকজন। তারা বলছেন, দায়িত্বশীলদের জ্ঞানহীনের মতো কর্মকান্ড দুঃখজনক। এছাড়াও জনসচেতনতা বৃদ্ধির আগে পৌর কর্তৃপক্ষের আরো বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।
ডোবার পানি দিয়ে জীবাণুনাশক স্প্রে তৈরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভৈরব উপজেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, এটি নিতান্তই একটি অসচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরো সচেতনা হওয়া প্রয়োজন।
এব্যাপারে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বুলবুল আহমেদ বলেন, ডোবার পানি দিয়ে জীবাণনাশক স্প্রে তৈরির করার কোনো নির্দেশনা আছে বলে মনে হয় না। এছাড়াও দূষিত পানি দিয়ে জীবাণুনাশক তৈরি হবে না বরং জীবাণু ছড়াবে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এবিষয়ে করোন ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক ভৈরব উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা লুবনা ফারজানার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ময়লা আবর্জনার পানি দিয়ে কখনোই জীবাণুনাশক তৈরি হবে না। বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়রের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে ভৈরব পৌরসভার মেয়র এ্যাডঃ ফখরুল আলম আক্কাছ এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে এবিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। এছাড়াও তিনি আরো বলেন জীবাণুনাশক স্প্রে তৈরির জন্য শ্রমিকদেরকে পৌর কবরস্থানের পশ্চিম পাশের বিল থেকে পানি সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা যদি পূর্বপাশের ডোবা থেকে পানি সংগ্রহ করে থাকে তবে এটিই মুটেও উচিৎ হয়নি। যাচাই করে এবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ভৈরবে আজ ২৫মার্চ থেকে আগামী ৪এপ্রিল পর্যন্ত গুটিকয়েক মুদি দোকান ও ঔষধের ফার্মেসি ছাড়াও সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করেন স্থানীয় প্রশাসন। ফলে ভৈরবে বুধবার সাপ্তাহিক হাট হলেও বাজারসহ সকাল থেকেই সবত্র জনশূণ্য থাকায় বিরাজ করছিল শোনশান নীরবতা। তার পরেও র্যাব পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণের লক্ষে সারাদিন ব্যাপি মহরায় ছিলেন। নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল থেকে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর পাশাপাশি সেনা বাহিনীও মাঠে থাকবে বলে জানা গেছে। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) হীমাদ্রী খীসা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।