স্বাধীনতার ৫০ বছরে ৩ বার আলো জ্বলেছে আলো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামছুদ্দিন মুন্নার উদ্যোগে ২৫শে মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সর্ববৃহৎ বধ্যভূমি কেন্দ্রীয় শ্মশান ঘাটে তৃতীয় বারের মতো মোমবাতি প্রজ্বালনের মধ্যে স্মরণ করা হয়েছে ৩৪ শহীদকে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুদ্দিন মুন্না, সহকারি কমিশনার (ভ’মি) আফসিয়া সিরাত, নিকলী থানা অফিসার ইনচার্জ শামছুল আলম সিদ্দিকী,মুক্তিযোদ্ধা গোপাল দাস,পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপুল দেবনাথ, হিন্দু ,বুদ্ধ, খৃষ্টান পরিষদের সভাপতি সঞ্জয় সাহা, নিকলী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক দিলীপ কুমার সাহা, সাংবাদিক খায়রুল মোমেন স্বপন, মোঃ হাবিব মিয়া প্রমুখ। ১৯৭১ সালে ২১শে সেপ্টেম্বর উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের সুত্রধর পাড়ার ৩৯ জনকে নিরাপত্তা কার্ড (ডান্ডি কার্ড) দেয়ার আশ্বাস দেয় শান্তি কমিটির স্থানীয় দালাল ও তৎকালীন দামপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাহেব আলী ওরফে ট্যাকার বাপ ও সিরাজ, সানাইসহ কয়েক রাজাকারের তত্ত্বাবধানে তাদেরকে নিয়ে আসা হয় রাজাকার ক্যাম্প নিকলী থানায়। এদের মধ্যে বাদল সুএধর, বাদল বর্মন, সুনু বর্মন, গোপাল সূত্রধর বয়সে কিশোর হওয়ায় রাখা হয় থানা হাজতে।
৩৫জনকে পিঠমোড়া বেঁধে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে চালানো হয় নির্যাতন। ক্ষণে ক্ষণে লাঠি আর বেয়নেটের খোঁচাখুঁচি চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। পাক মেজর দোররানীর বর্তমানে (নিকলী জিসি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে পাক ঘাঁটিতে অবস্থানরত) সঙ্গে ওয়ারলেসযোগে সিদ্ধান্ত নেয় রাজাকার হোসেন আলী। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঐ ৩৫ গ্রামবাসীকে থানার নিকটস্থ সোয়াইজনী নদীর পশ্চিমপাড়ের শ্মশানখলা ঘাটে সারিবদ্ধ দাঁড় করিয়ে চালানো হয় ব্রাস ফায়ার।
রাজাকারদের সহযোগিতায় গুলিবিদ্ধ ৩৫ জনকেই হলুই (মাছ গাঁথার বড় সুই) করে নিয়ে যাওয়া হয় ধুবলারচর নামক হাওরে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ঘোড়াউত্রা নদীতে ডুবিয়ে দেয় সবাইকে। এ সময় ৩৫ জনের মধ্যে কামিনী বর্মন নামে একজন কাকতালীয়ভাবে বেঁচে যান। ভোর বেলায় ছেড়ে দেয় থানা হাজত থেকে ৪ কিশোরকে। ততক্ষণে হাওরের জলে ভেসে গেছে তাদের মা-কাকির কপালের সিঁদুর।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামছুদ্দিন মুন্না বলেন, সুদীর্ঘ সময়ে বধ্যভূমিটিতে শহীদ বেদি হয়নি এটি দুঃখজনক। শহীদ বেদি নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।