কিশোরগঞ্জের নিকলীতে জলমহালের বিরোধকে কেন্দ্র প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে সোহেল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় এলোপাথারি গুলিতে ৫ শিশুসহ ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের মধ্যে তিন জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ মে) বিকেলে নিকলী উপজেলা সদরের ষাইটধার জাফরাবাদ গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হচ্ছে, আকাশ (১৮), রিয়ান (৮), শাবন্তি (৯), তৃষা (৮), তুহিন (৪) ও নিশা (৬)।
পুলিশ জানায়, ষাইটধার শুয়াইজানি নদীর পাটিবাঁধ এলাকা তিন বছরের জন্য লীজ নেয় জাফরাবাদ গ্রামের সাদ্দাম হোসেন আপন। একই এলাকায় ফসল চাষের জন্য নদীর চর লীজ নেন ষাইটধার গ্রামের জনৈক নূরুল ইসলাম।
অভিযোগ রয়েছে, নূরুল ইসলামের ছেলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল সরকারি নীতি না মেনে ওই চরে মাছ চাষের জন্য খাদ নির্মাণ শুরু করলে সাদাম এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সোহেলের সাথে সাদ্দামের তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে সোহেল বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সাদ্দামের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে সোহেল। এতে গুলিবিদ্ধ হয় ৫ শিশুসহ ৬ জন।
আহতদের মধ্যে আকাশ নামে এক কিশোরকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রিয়ান ও শ্রাবন্তি নামে দুই শিশুকে নিকলী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়। তবে গুলিবিদ্ধদের অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করে।
নিকলী থানার ওসি শামসুল আলম সিদ্দিকী জানান, কার্তুজের গুলিতে ৬ জন সামান্য আহত হয়েছে। হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ব্যাপারে সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে নিকলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত নামা ২০-২৫ জনকে আসমি করা হয়েছে। এর মধ্যে জালাল মিয়া (৪৫) ও ছেলে উজ্জল (২২) পুলিশ বুধবার ভোরে গ্রেপ্তার করেছে।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) জানান, ঘটনার পর অস্ত্র নিয়ে হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। যে কোন পরিস্থিতিতে তাদের গ্রেফতার করে আইনে আওতায় নেয়া হবে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।