সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।

ঘরের রক্ত মুছে গোসল করে ফজরে ইমামতি, জুমার নামাজে দুইবার ভুল

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১
  • ৩০৮ বার পড়া হয়েছে
ঘরের রক্ত মুছে গোসল করে ফজরে ইমামতি, জুমার নামাজে দুইবার ভুল

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দক্ষিণখানের মধুবাগ এলাকায় ইউসুফ গাজীর ৩৯ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন নিহত আজহার। বাসায় আসা-যাওয়ার সূত্র ধরেই ইমামের সঙ্গে সম্পর্ক হয় তাঁর স্ত্রীর। অন্তত এক বছর ধরে এই সম্পর্ক চলছিল। আজহার বিষয়টি টের পেয়ে পাঁচ মাস আগে বাসাও বদল করেন। ২০ দিন আগেও ইমাম ও আজহারের স্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়।

বিষয়টি জানতে পেরে আজহার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে তাঁর নিজ বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে চলে যান। এরপর কালিহাতী থেকে ইমামকে ফোন করে তাঁদের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি জানতে চাইলে ইমাম অস্বীকার করেন। ইমাম বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আজহারকে মসজিদে আসতে বলেন। সে অনুযায়ী ইমামের সঙ্গে দেখা করতে গত ১৯ মে দক্ষিণখানে সরদারবাড়ি মসজিদে আসার পর নিখোঁজ হন আজহার।

এ ঘটনা তদন্তের একপর্যায়ে দক্ষিণখানে মাদরাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া থেকে আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারের লাশ উদ্ধার করা হয়।

দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক মিয়া বলেন, এ ঘটনায় পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক বিষয়ে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাব-১-এর পরিচালক (সিও) লে. কর্নেল আব্দুল মুত্তাকিম। তিনি বলেন, র‌্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম আব্দুর রহমান আজহারকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। ইমাম রহমান র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, আজহার অভিযোগ করছিলেন যে তাঁর স্ত্রীর দিকে ইমামের কুনজর রয়েছে। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডায় তিনি আজহারকে হত্যা করেন। তবে আজহারের স্ত্রীর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেন ইমাম।

আব্দুল মুত্তাকিম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে র‌্যাব জানতে পেরেছে যে দক্ষিণখানের বাসিন্দা আজহারের স্ত্রীর প্রতি কুনজর ছিল ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের। বিষয়টি জানার পর ইমামকে নিষেধ করতে মসজিদে গিয়েই খুন হন আজহার। ইমাম পুরো হত্যাকাণ্ডটি ঘটান মসজিদে তাঁর শয়নকক্ষে। এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরও ইমাম মসজিদে নিজ কক্ষেই অবস্থান করেন। তিনি নিয়মিত ওয়াক্তের নামাজে ইমামতিও করেন।

স্ত্রীর ওপর ইমামের কুনজর পড়ার অভিযোগ পেয়ে গত ১৯ মে রাতে সরদারবাড়ি জামে মসজিদে ইমামের কক্ষে যাওয়ার পর থেকেই আজহার নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এক পর্যায়ে মসজিদের সিঁড়িতে রক্তের দাগ ও সেপটিক ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার তথ্য পায় র‌্যাব। গতকাল ভোরে ইমামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার ঘটনা বেরিয়ে আসে।

গতকাল দুপুরের দিকে এলাকায় গেলে সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সামনে স্থানীয় মুসল্লিসহ এলাকাবাসীর ভিড় দেখা যায়। দোতলা ভবনবিশিষ্ট মসজিদের এক পাশ তালাবদ্ধ। অন্য পাশ নামাজের জন্য খোলা। নিচতলার ওজুখানার পানির ট্যাংকের ভেতর থেকেই আজহারের ছয় টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়। সেখানে উপস্থিত মো. মোস্তফা নামের এক মুরব্বি বলেন, সকালে দুর্গন্ধ পাওয়া যায় মসজিদে। এ নিয়ে কানাকানি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা জেনে পুলিশ ও র‌্যাব এসে ছয় টুকরা লাশ উদ্ধার করে। পরে হুজুরকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় র‌্যাব। রিফাত নামের আরেক মুসল্লি বলেন, ‘ঠিক কখন আজহারকে খুন করা হয় তা আমরা জানি না। তবে হত্যার পর লাশ মসজিদের ভেতরে রেখেই ইমাম সাহেব আমাদের নামাজ পড়ান বলে মনে হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার পর না পালিয়ে মসজিদের যে কক্ষে থাকতেন, সে কক্ষ ছেড়ে পাশে মাদ্রাসার একটি কক্ষে থেকে যথারীতি ছয় দিন ধরে নামাজে ইমামতি করে আসছিলেন রহমান।

স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে র‌্যাব-১ অধিনায়ক মোত্তাকিম বলেন, ঘরের রক্ত মুছে নিজে গোসল করে ফজরের নামাজে যথারীতি ইমামতি করেন আব্দুর রহমান। ঘটনার একদিন পর জুমার নামাজ পড়াতে গিয়ে দুবার তার ভুল হয়েছিল এবং তাকে কিছুটা অস্বাভাবিক লাগছিল বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com