স্থানীয়রা বলছেন, রাতে রাসায়নিক মিশ্রিত পানির বালতিতে কলা ডুবিয়ে রাখা হয়। আর সকালে এ কলার খোসার রং হলুদ হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা বলেন, নিয়মিত কয়েক মাস রাসায়নিক মিশ্রিত কলা খেলে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাড়াইল সদর বাজারে কয়েকটি কলার আড়ত দিয়ে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাইকারীভাবে কলা বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়াও উপজেলার প্রত্যান্তঞ্চলে ছোট-বড় কলার আড়ত রয়েছে। ঢাকার নরসিংদী, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন ৪-৫ ট্রাক কাঁচা কলা আসে এসব আড়তে।
এলাকাবাসী জানান, রাতে ট্রাক থেকে এসব আড়তে কাঁচা কলা নামাতে দেখা গেলেও আড়তদারদের জাদুকরি হাতের স্পর্শে সকাল হতে না হতেই কলাগুলো টকটকে হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম উপায়ে পাকানো এসব কলা চড়াদামে কিনে নিয়ে ভ্যান গাড়ী করে ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে ও হাট বাজারে বিক্রি করছেন। আর ক্রেতারা প্রকৃত পাকা ভেবে চড়ামূল্যে তা কিনে নিয়ে খেয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কলা ব্যবসায়ী বলেন, অল্পসময়ের মধ্যে কলা পাকাতে অনেক রাতে আড়তদাররা রাসায়নিক মিশ্রিত পানি স্প্রে করেন অথবা রাসায়নিক মিশ্রিত বালতির পানিতে কাঁচা কলাগুলো চুবিয়ে রাখেন। এতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কলার খোসার রং হলুদ ধারণ করে পাকা কলার মত হয়ে যায়। এ কলার রং অনেক উজ্জ্বল হয়ে থাকে বিধায় ক্রেতারা এ কলা দেখেই আকৃষ্ট হন। বেশি দামেও বিক্রি করা যায়। শাহীন আলম নামের এক ক্রেতা বলেন, গত মঙ্গলবার এক ডজন পাকা কলা কিনে বাসায় নিয়ে গেছি, সকালে খেতে গিয়ে দেখি কলাগুলোর ভেতরে কাঁচা, মাজাটা শক্ত। আজ পর্যন্তও ওই কলাগুলোর ভেতরে কাঁচাই ছিল।
সরেজমিনে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে কলা আড়ত ব্যবসায়ীরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেডিসিনের মাধ্যমে আমরা কলা পাকাই, এতে কোন সমস্যা নেই। আমরা অনেক দিন থেকে বিক্রি করে আসছি। কারো কোনো ক্ষতি হয় নাই।
এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা অফিসার ডা. আলমাস হোসেন বলেন, নিয়মিত কয়েক মাস রাসায়নিক মিশ্রিত কলা খেলে মানুষের কিডনি ও যকৃৎ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়। সুতরাং দেখেশুনে যাচাই করে কলা কেনা উচিত।