কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৫জনকে গ্রেপ্তার করে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মৃত আবু তাহের মাইক আবু তাহেরের ছেলে তাকবির উদ্দিন রাকিব (৩০), পাকুন্দিয়া পৌরসদরের হাপানিয়া গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে মুঞ্জিল (২৮), পাটুয়াভাঙ্গা গ্রামের ছিদ্দিক হোসেনের ছেলে শাহরিয়ার আলম মুন্না (২১), পোড়াবাড়িয়া গ্রামের সুলতান উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে আজিজুল হক রুমেল (৪৩), নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আবদুল মমিনের ছেলে ইকবাল হোসেন (২৮)।
পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সারোয়ার জাহান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, নিত্যপন্যসহ তেল, গ্যাস ও পেট্রোলের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ও ভোলা-নারায়নগঞ্জে দলীয় কর্মী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে গত শনিবার সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পৌরসদরের সৈয়দগাঁও চৌরাস্তা এলাকায় জড়ো হতে থাকে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেতাকর্মীরা সৈয়দগাঁও চৌরাস্তা এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে পাকুন্দিয়া পৌরসদর বাজারের দিকে আসতে চাইলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে পৌরসদরের চরফরাদী নামা বাজার টিএনটি রোড ও মলংশাহ মাজার এলাকায়পুলিশ-বিএনপি-আ’লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীসহ, আওয়ামীলীগ ও পুলিশ সদস্য আহত হয়।
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যেও থেমে থেমে এ সংঘর্ষ চলে চার ঘন্টা ব্যাপি। বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে অতিরিক্ত পুলিশসহ পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ টিয়ারসেল, রাবারবুলেট ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। পরে রবিবার পুলিশ বাদী হয়ে ১৩৯জনের নাম উল্লেখ করে দেড় হাজার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মোট ৩০জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।