কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বলী নদীতে ড্রেজারে চাঁদাবাজি কাজে ব্যবহৃত করা একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা এক ডাম ডিজেলতৈলসহ ৪ চাঁদাবাজকে আটক করেছে নিকলী থানার পুলিশ।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলী নদীতে বিভিন্ন নৌযানসহ বালু উত্তেলনের ড্রেজারে চাঁদাবাজি করে। অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের সময় নদীতে থাকা নিকলী থানার পুলিশ তাদের আটক করেছে। আটককৃতদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা, এক ডাম ডিজেলতৈল নগদ টাকা জব্দ করে নিকলী থানার পুলিশ।
এ ব্যাপারে রাসেল মিয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে নিকলী থানায় আট জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ৮ জনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছে।
আটককৃতরা হলো- নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্বগ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে মনির হোসেন(২৮), পূর্বগ্রাম বাজার হাটির আঃ আজিজ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম দয়াল(৩৫),পূর্বগ্রাম বাজারহাটির সাদেক মিয়ার ছেলে রুবেল (২৮), পূর্বগ্রাম বাজারহাটির ইসমত আলীর ছেলে ফারুন (৩৮)।
মামলার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ নিকলীর ঘোড়াউত্রা ও বালী নদীতে নৌ পথে প্রকাশ্যে ও জোরপূর্বক চাঁদাবাজি করতো তারা। কিন্তু এতোদিন তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিল।
মামলার বাদী ও ড্রেজারের মালিক রাসেল মিয়া জানান, আমি ড্রেজার দিয়ে বলী নদী থেকে আশ্্রয়ন প্রকল্পের বালু উত্তোলন করি।আসামী মনির গং কয়েক দিন ধরে আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দিলে মারধর ও বালু উত্তোলন বন্ধের হুমকী দেয়। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে আসামী মনিরসহ ১৫ জনের একটি দল বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে ড্রেজারে আসে। এ সময় ড্রেজারে থাকা শ্্রমিকদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নৌকার শ্্রমিকদেরকে মারধর করে এবং ড্রেজারে থাকা ৫০ হাজার টাকা, তিনটি এন্ডোয়েড মোবাইল ফোন ও এক ডাম ডিজেলতৈল নিয়ে যায়। এদিকে ঘোড়াউত্রা নদীতে টহলরত পুলিশকে বিষয়টি জানালে, পুলিশ অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজি কাজে ব্যবহৃত করা একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা এক ডাম ডিজেলতৈলসহ ৪ চাঁদাবাজকে আটক করে।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনসুর আলী আরিফ বলেন, নৌপথে চাঁদাবাজি করে কেউ পারপাবেনা। নদীতে অভিযান চালিয়ে চাঁদবাজকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে , অন্য আসামীদেরকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। তাদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতেই নিকলী থানায় চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। নৌপথে কোন অপ্রতিকার ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি।